মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান। মধ্যস্থতাকারী তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ইরানের কাছে এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানের কাছে পাঠিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরান সরাসরি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় পরপর সামরিক সংঘাত আবার দ্রুত বৃদ্ধি পায়। যার মধ্যে ইরানের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনাও রয়েছে।
তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের আক্রমণে চাপে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ইরানের কাছে ৪৮ ঘন্টার জন্য যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। কিন্তু ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রক সরাসরি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। আসলে যুদ্ধবিরতি না করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও চাপে ফেলাই কৌশল ইরানের। যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করার পরপরি ইরান আক্রণের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি করে। এবং গুড ফ্রাইডেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটা কালো দিনে পরিণত করে।
শুক্রবার ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান এবং পাঁচটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস ইরানের বেশ কয়েকটি প্রদেশে একাধিক সফল প্রতিরোধের খবর দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ডিফেন্স ফোর্সের যুদ্ধবিমানগুলো খোমেইন ও জাঞ্জানের আকাশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করেছে। এছাড়াও, ইসফাহানের আকাশে দুটি এমকিউ–৯ অ্যাটাক ড্রোন এবং বুশেহরের আকাশে একটা হার্মিস ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ইরান একটা এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করারও দাবি করেছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে এই বাধা প্রদান করা হয়েছে, যা দেশের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। নিখোঁজ পাইলটের সন্ধানে তল্লাশি চলছে এবং জানা গেছে যে তিনি নিরাপদে বিমান থেকে বের হতে পারেননি। ভূপাতিত বিমানটি পাইলটকে খুঁজতে যাওয়া দ্বিতীয় একটা বিমানও ইরানি বাহিনীর গুলিতে ভূপাতিত হয়।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন যে, আজ সকালে একটা বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর দ্বিতীয় একটি মার্কিন বিমানও ইরানি হামলার শিকার হয়েছে। ইরান এফ–১৫ বিমানটি ভূপাতিত করার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য পাঠানো একক পাইলটের একটা বিমানও ইরানি হামলার শিকার হয়। ওই কর্মকর্তা জানান, একক পাইলটের বিমানটি ছিল এ–১০ থান্ডারবোল্ট, যা ‘ওয়ারহগ’ নামে পরিচিত। এ–১০ বিমানটি কুয়েতের আকাশসীমায় পৌঁছতে সক্ষম হয়। সেখানে পাইলট বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। তিনি আরও জানান, পাইলট নিরাপদ আছেন এবং এ–১০ বিমানটি কুয়েতে বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রাইম টাইম ভাষণে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এই সব ঘটনা ঘটল।