ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েল যুদ্ধে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলি ইরানের পাশে না দাঁড়ালেও ইজরায়েলের নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনের বিরুদ্ধে একজোট ৭টি দেশ। ৭টি মুসলিম দেশ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পশ্চিম তীরে ইজরায়েলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে একে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ৭টি মুসলিম দেশ পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ইজরায়েলের বিরুদ্ধে একটা ফ্রন্ট খুলেছে। পশ্চিম তীরে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখার কারণে ইজরায়েল আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে। পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশরসহ ৭টি দেশ ইজরায়েলের মৃত্যুদণ্ড আইনের বিরুদ্ধে একটা যৌথ বিবৃতি জারি করেছে এবং তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাশাহির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৃহস্পতিবার ইজরায়েলি পার্লামেন্টের (নেসেট) পাশ করা আইনটির নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি জারি করেন।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এই আইনটি সরাসরি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে এবং এটা এই অঞ্চলে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। দেশগুলি ইজরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী বলে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে যে, এটা ইজরায়েলের দখলদার ক্ষমতারই প্রতিফলন। যৌথ বিবৃতি অনুসারে, ইজরায়েলের প্রবর্তিত এই আইনটি পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে এবং বৈষম্যমূলকভাবে ব্যবহার করা হতে পারে। বিশেষ করে, এই আইনের আড়ালে ফিলিস্তিনি বন্দীদের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ পশ্চিম তীরে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে, শান্তি প্রক্রিয়াকে দুর্বল করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে। এছাড়াও, যৌথ বিবৃতিতে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, ইজরায়েলের নীতি ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকারকে অস্বীকার করে এবং একটা বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা তৈরি করে। এই নীতি ফিলিস্তিনের পরিচয় ও অস্তিত্বকেই চ্যালেঞ্জ করে, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।
বিবৃতিতে ইজরায়েলি কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, বন্দীদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতন, অমানবিক আচরণ, খাদ্য সংকটের অভিযোগ উঠেছে এবং তাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এই দেশগুলো আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি ধারাবাহিক ঘটনার অংশ। যৌথ বিবৃতিতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। ইজরায়েলকেও এমন কোনদ পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে।