আবার বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তান। বুধবার পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৪ জন পুলিশকর্মীসহ ৯ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি লাক্কি মারওয়াত জেলার সেরাই নৌরং শহরের বান্নু–ডিআই খান সড়কের একটা ফল ও সবজির বাজারের কাছে ঘটেছে। বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলে প্রচুর মানুষজন ছিল। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র কুদরতুল্লাহ খানের মতে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, হামলাকারীরা শহীদ আসমাতুল্লাহ খান খাত্তাক থানার একটা টহলদারী দলকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। বিস্ফোরণে পুলিশ দলটি যে গাড়িতে টহল দিচ্ছিল সেটিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আশেপাশের দোকানপাট ও দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের ফলে বিদ্যুৎ লাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীরা একটা মোটরসাইকেলে হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র (আইইডি) লাগিয়েছিল। পাশ দিয়ে একটা পুলিশের ভ্যান যাওয়ার সময় সেটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের শব্দ বহুদূর পর্যন্ত শোনা যায়,। বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে হেড কনস্টেবল ওয়াহিদুল্লাহ এবং কনস্টেবল সৈয়দ আনোয়ার, হাদিউল্লাহ ও ইকরামুল্লাহ ছিলেন।
ঘটনার পরপরই ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। আহত সবাইকে নিকটবর্তী একটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় মোট ৯ জন আহত হয়েছেন। অন্য আহতরা হলেন ১৬ বছর বয়সী ফিদুল্লাহ, ৮ বছর বয়সী জাহিদুল্লাহ, ১৩ বছর বয়সী ইয়াসির, ৫৫ বছর বয়সী সুলেমান এবং মুজীব।
বান্নু এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান এবং প্রশাসনকে সর্বোত্তম চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের এমন কাপুরুষোচিত কাজ পুলিশের মনোবল দুর্বল করতে পারবে না। পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সাজ্জাদ আরও বলেন, ‘শান্তির শত্রুদের যে কোনও চক্রান্ত ব্যর্থ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ এই ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলো হামলাকারীদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
লাক্কি মারওয়াতের বেত্তানি মহকুমায় পুলিশের একটা গাড়িতে আরেকটি হামলার প্রায় দুই সপ্তাহ পর এই ঘটনাটি ঘটল। ওই হামলায় একজন অফিসারসহ ৭ জন পুলিশ মারা গিয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছিল, সেই ঘটনাতেও নিয়মিত টহলরত শাদিখেল থানার একটা দলকে লক্ষ্য করে আইইডি ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই হামলায় স্টেশন হাউস অফিসার ও পাঁচজন কনস্টেবলসহ ৬ জন নিহত হন।