রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট সকলের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছিল। দুদিন আগেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২ সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এবার রাশিয়া–ইউক্রেনের মধ্যেও যুদ্ধবিরতি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ৩২ ঘণ্টার জন্য অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষ্যে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে ১১ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ইউক্রেনের সঙ্গে ৩২ ঘণ্টার অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে রাশিয়া। এই যুদ্ধবিরতি শনিবার বিকেল ৪টায় শুরু হয়ে রবিবার পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোউসভ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভকে এই সময়ের জন্য সব এলাকায় যুদ্ধ অভিযান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘রাশিয়ান ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ভ্লাদিমির পুতিনের সিদ্ধান্তে ১১ এপ্রিল বিকেল ৪টে থেকে অর্থোডক্স ইস্টারের আগে ১২ এপ্রিল সন্ধে পর্যন্ত একটা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা মনে করি যে ইউক্রেনীয় পক্ষ রাশিয়ার পথ অনুসরণ করবে। তবে রাশিয়ান সেনাবাহিনী শত্রুর যে কোনও সম্ভাব্য উস্কানি এবং আগ্রাসী পদক্ষেপের জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।’
ছুটির দিনে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। গত বছর ইস্টারে পুতিন একই ধরনের ৩০ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। যদিও তা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ভেস্তে গিয়েছিল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইস্টারের জন্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়ার পর রাশিয়া মেনে নিল।’ ৩১ মার্চ ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা ইস্টারের ছুটির জন্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করি যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবকে সমর্থন করবে। এখন আমরা রাশিয়ার প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। মার্কিন দলের সঙ্গেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’
রাশিয়া প্রথমে ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে রাজি হয়নি। রাজি না হওয়ায় কয়েকদিন পর জেলেনস্কি রাশিয়ার সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা রাশিয়াকে বারবার অন্তত ইস্টার পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু তাদের কাছে সব সময়ই সমান এবং কোনও কিছুই পবিত্র নয়। যদি রাশিয়া এই যুদ্ধের খরচ বহন করতে পারে, তবে তারা স্বেচ্ছায় শান্তি বেছে নেবে না। শুধুমাত্র ব্যাপক আর্থিক ক্ষতিই রাশিয়াকে এই যুদ্ধ ত্যাগের কথা বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।’
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন মধ্যস্থতায় আলোচনা থমকে গেছে এবং শান্তির দিকে কোনও বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। রাশিয়া এই সংঘাতের সময় দখল করা ভূখণ্ডের ওপর দাবি অব্যাহত রেখেছে এবং জেলেনস্কি সেই ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে অস্বীকার করছেন ও আরও সুরক্ষিত একটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ক্রমাগত চাপ দিচ্ছেন।