এভাবেই অবরোধ করা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চোখের সামনে ২০টি জাহাজের হরমুজ অতিক্রম।
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালীর ওপর সম্পূর্ণ অবরোধ ঘোষণা করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পরিকল্পনা ছিল অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিপর্যস্ত করে ইরানকে নতজানু করা। অবরোধ করা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চোখের সামনে দিয়ে চীন ও লাইবেরিয়ার ২০টি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করে। ১০০০০ মার্কিন সৈন্যও জাহাজগুলিকে আটকাতে পারেনি। পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই হরমুজ অবরোধ তুলে নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলতে গেলে, ইরানের কৌশলের কারণেই ব্যর্থ তাঁর হরমুজ অবরোধ।
হরমুজের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন হরমুজ পুরোপুরি খুলে দিচ্ছি। এই ব্যাপারে আমরা চীনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। চীন ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারপরই আমরা স্থায়ীভাবে হরমুজ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন যে, ‘হরমুজ প্রণালী আর কখনও বন্ধ করা হবে না। এটা এখন সকল দেশের জন্য উন্মুক্ত। আমি এতে অত্যন্ত আনন্দিত।’
অবরোধ ঘোষণা করার ৪৮ ঘন্টা পরই কেন ট্রাম্প তা তুলে নিল? আসলে হরমুজ প্রণালীর বাইরে মার্কিন অবরোধ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। অবরোধের প্রথম দিনে প্রায় ২০টি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই জাহাজগুলি থামাতে পারেনি। জাহাজগুলির অধিকাংশই ছিল চীনা। জাহাজগুলি থামালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমস্যায় পড়তে হত। কারণ, চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার জন্য সতর্ক করেছিল। ট্রাম্প বুঝেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালীতে চীনা জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, তাহলে চীন দক্ষিণ চীন সাগরে ভয়াবহ তাণ্ডব চালাতে পারে। বিশ্বের মোট বাণিজ্যের ৩৩ শতাংশ এই দক্ষিণ চীন সাগর দিয়েই হয়। সুতরাং, ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনা জাহাজে হামলা করতে পারছে না।
এছাড়া, ইরানের কৌশলও ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ অবরোধকেও ব্যর্থ করে দিয়েছে। অবরোধের প্রথম দিনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে নতজানু করতে হরমুজ প্রণালী অবরোধের আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু ইরানের কৌশলের মুখে এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হচ্ছে। ইরান প্রথমে চীনা জাহাজগুলোকে কেশম দ্বীপে নিয়ে যায়। তারপর হরমুজ থেকে বের করে দেয়।
দ্বিতীয়ত ইরান তার প্রস্থানের স্থান পরিবর্তন করছে। বুধবার অ্যালিসিয়া নামের একটা জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করে। অবস্থান অনুযায়ী, জাহাজটির ইরাক থেকে পণ্য তোলার কথা ছিল। কিন্তু এটা ইরান থেকে পণ্য তুলেছে। এর অর্থ হল, ইরান তার অবস্থান পরিবর্তন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চালাকি করছে। ইরান জানে যে, জাহাজটির প্রস্থানস্থল যদি ইরান হয়, তবে আমেরিকা সেটিতে হামলা করতে পারে, কিন্তু অন্য দেশের জাহাজের বিরুদ্ধে কিছুই করবে না।
এছাড়া, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলি হরমুজ ইস্যুতে সক্রিয় ছিল। ফ্রান্স জোর দিয়েছিল যে, যুদ্ধে জড়িত যে কোনও দেশকে হরমুজ থেকে সরিয়ে দিতে হবে। একটা যুদ্ধরত রাষ্ট্র সমগ্র বিশ্বকে হুমকি দিতে পারে না। এই সমস্যা মোকাবেলার জন্য ব্রিটেন ও ফ্রান্স জোট গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।