এতদিন গোটা বিশ্ব ভাবছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন ইরান আক্রমণ করেছে। অনেকের ভাবনা ছিল ইরানকে পারমানবিক অস্ত্র তৈরি থেকে নিরস্ত্র করার জন্যই ইরান আক্রমণ করেছেন ট্রাম্প। এবার আসল কারণ উন্মোচন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের নজর ইরানের কোষাগারের ওপর। তার জন্যই খার্গ দ্বীপ দখল করতে চান। খার্গ ইরানের সম্পদশালী দ্বীপ, যার ওপর দেশটির অর্থনীতি নির্ভরশীল।
যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। তাই তাদের থামানো প্রয়োজন। তবে এখনও পর্যন্ত ট্রাম্প তার কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি। এখন ট্রাম্প বিশ্বের কাছে তাঁর আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের কাছে এই যুদ্ধ একটা ব্যবসায়িক মডেল ছাড়া আর কিছুই নয়। ইরানে চলমান যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে তেলের দামে প্রভাব ফেলছে, কিন্তু ট্রাম্প নির্বিকার। এখন তিনি তেহরানে হামলার পেছনের আসল কারণ প্রকাশ করেছেন।
ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প খোলাখুলিভাবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেন। বলেছেন যে, তিনি ইরানের তেল চান, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চান, হরমুজ প্রণালীর ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চান। ট্রাম্প বলেন যে, ইরানের তেল তাঁর সবচেয়ে প্রিয় পণ্য। তার জন্য তাঁরা খার্গ দ্বীপ দখল করতে পারেন। ইরান জবাবে জানিয়েছে, যদি মার্কিন সেনারা খার্গ দ্বীপে প্রবেশ করে, তাহলে তাদের জাহান্নাম দেখিয়ে দেবে।
খার্গ দ্বীপ দখলের প্রশ্নে ট্রাম্প বলেছেন, আমি কী করতে চাইছি, আমেরিকার কিছু লোক বুঝতে পারছে না। আমার লক্ষ্য খার্গ দ্বীপ দখল করা।’ প্রকৃতপক্ষে, খার্গ দ্বীপকে ইরানের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকারের আয়ের একটা বড় অংশ আসে খার্গ থেকে তেল রফতানির মাধ্যমে। এই অর্থ সরকারি ব্যয়, মৌলিক পরিষেবা এবং সামরিক অবকাঠামোতে সহায়তা করে। ট্রাম্প এও দাবি করছেন যে, ‘ইরানের খার্গ দ্বীপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশেষ কিছু নয়। আমরা খুব সহজেই এটা দখল করতে পারি।’
এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প কেন খার্গ দখল করতে চান।
১) ইরানের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ এখান থেকে রফতানি করা হয়।
২) এখান থেকে বড় বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো সারা বিশ্বে যাতায়াত করে।
৩) খার্গে খুব বড় আকারের জলাধার এবং লোডিং সুবিধা রয়েছে।
৪) খার্গ দ্বীপ হল জাহাজে তেল মজুত ও বোঝাই করার প্রধান কেন্দ্র।
৫) ইরানের জন্যও খার্গের কৌশলগত অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।
৬) খার্গ দ্বীপ পারস্য উপসাগরে অবস্থিত, যা বিশ্বের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ তেল পথ।
৭) খার্গ হাতছাড়া হলে ইরানের তেল রফতানি কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের কাছে ৪৫০ কিলোগ্রাম ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা দ্রুত বাড়িয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশে উন্নীত করা যেতে পারে। তবে, ট্রাম্প ইরানের এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনও প্রমাণ দেননি, কেবল দাবিই করেছেন। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ইউরেনিয়াম জব্দ করেও ফেলে, তা সেখানে স্থানান্তর করা কঠিন হবে।