হরমুজ প্রণালীর কাছে দক্ষিণ উপকূল বরাবর অবস্থিত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে একাধিক ৫০০০ পাউন্ড (২২০০ কেজি) বাঙ্কার বাস্টার বোমা ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমনই দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, এই হামলাগুলি ইরানি জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করছিল।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এসকর্ট করার জন্য ন্যাটোর মিত্র দেশগুলির কাছে নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর জন্য আবেদন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সেই আবেদন অধিকাংশ মার্কিন মিত্র প্রত্যাখ্যান করে। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই বোমা হামলার কথা ঘোষণা করে। বুধবার ভোরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ‘কয়েক ঘন্টা আগে, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের উপকূল বরাবর অবস্থিত একাধিক ৫০০০ পাউন্ডের যুদ্ধাস্ত্র সফলভাবে ব্যবহার করেছে।’ সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, এই হামলাগুলি ইরানের জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, যা হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার আগে বলেছিলেন, উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থার (ন্যাটো) অধিকাংশ মিত্র দেশ ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানে জড়িত হতে চায় না। যদিও তিনি এই পদক্ষেপকে ‘নির্বোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে ট্রাম্প এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি যে, তিনি জোটের অন্য সদস্যদের তাদের অবস্থানের জন্য শাস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ট্রাম্প বলেছেন, ন্যাটো দেশগুলো এতে জড়িত হতে না চাইলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ যুদ্ধকে সমর্থন করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সবাই আমাদের সঙ্গে একমত, কিন্তু তারা সাহায্য করতে চায় না। আমরা মনে করি এটা অবাক করার মতো।’
হরমুজ প্রণালী দিয়ে কন্টেইনার জাহাজগুলোকে নির্বিঘ্নে চলাচলে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর প্রকাশ্য আহ্বান জানানোর মাত্র কয়েক দিন পরেই ট্রাম্প এই মন্তব্যটি করেন। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অতি ঘনিষ্ঠ মিত্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই আবেদন এড়িয়ে গেছে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা এই সংঘাতের সক্রিয় অংশ হব না।’ অন্যান্য দেশগুলি জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী অবরোধমুক্ত করতে সাহায্য করার জন্য জাহাজ পাঠানোর কোনও তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা তাদের নেই। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর দেশ এটা কখনোই করবে না।