সোমবার ভারতীয় সময় সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ হরমুজ প্রণালী অবরোধ শুরু করেছিল মার্কিন নৌবাহিনী। ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই হরমুজ প্রণালীর ওপর মার্কিন অবরোধ ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের অনুমতি নিয়ে একটা চীনা পণ্যবাহী জাহাজ কোনোও সমস্যা ছাড়াই হরমুজ অতিক্রম করেছে। জাহাজটি মিথানল বহন করছিল। চীনের এই জাহাজটি আটকাতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই জাহাজটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর আগেই নিষিদ্ধ করেছিল। তা সত্ত্বেও চীনা মিথানল ট্যাঙ্কারটিকে আক্রমণ করতে পারেনি।
মিথানল বহনকারী চীনা ট্যাঙ্কার ‘রিচ স্টারি’ কেশম দ্বীপের পাশ দিয়ে হরমুজ অতিক্রম করে। প্রথমে জাহাজটিকে কেশমের কাছে অল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়। পরে জাহাজটিকে হরমুজ পার করে দেওয়া হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেখানে অবরোধ ঘোষণা করেছে, মঙ্গলবার সকালে ট্যাঙ্কারটি ওমান উপসাগরের সেই এলাকায় দেখা যায়। ট্যাঙ্কারটি প্রথমে পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজের কাছে এসে পৌঁছায়। প্রথম চেষ্টায় হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে ব্যর্থ হলেও, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ছাড়পত্র পায়। জাহাজটি চীনা বন্দরের দিকে যাচ্ছে। ‘রিচ স্টারি’ নামের কোম্পানিটিও চীনা।
আরও পড়ুনঃ হরমুজ প্রণালী অবরোধ শুরু করলেন ট্রাম্প, পাল্টা হুমকি ইরানের, লক্ষ্য পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় বন্দর
মার্কিন প্রেসিডেন্টের হরমুজ প্রণালী অবরোধে সবথেকে বড় ধাক্কা হত চীনের। কারণ, চীনের ৪০ শতাংশ তেল এবং ৩০ শতাংশ এলএনজি এই রাস্তা দিয়েই সরবরাহ হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ অবরোধের কথা ঘোষণা করলে, চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাডমিরাল ডং জুন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছিলেন। চীন পরিস্কার বলেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নয় তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা, অন্যথায় এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। ডং জুন আরও বলেন, ‘ইরানের সাথে আমাদের বাণিজ্য ও জ্বালানি চুক্তি রয়েছে। আমরা আশা করি, অন্যরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। হরমুজ প্রণালী চীনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’
হরমুজ প্রণালী বেজিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জলপথ দিয়ে চীন তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং এলএনজি চাহিদার অন্তত ৩০ শতাংশ সরবরাহ করে। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি সুরক্ষিত করতে চীন উপসাগরে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিচ্ছে। ট্রাম্পের নৌ অবরোধের লক্ষ্য হতে পারে চীনা ইউয়ান, যা কিছু জাহাজ উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথগুলো দিয়ে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করে। এটাকে কয়েক দশক পুরোনো পেট্রোডলার ব্যবস্থার প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর একটি উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।