ইডি–র তল্লাশি অভিযানের প্রতিবাদে শুক্রবার পথে নেমেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এসআইআর–এ তথ্য যাচাইয়ের নামে সাধারণ মানুষের হয়রানি নিয়ে আগেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার নির্বাচন কমিশনের মুখোমুখি হতে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার হাজরা মোড়ের প্রতিবাদ সভা থেকে তিনি দিল্লি অভিযানের ডাক দিয়েছেন।
আইপ্যাকের দফতরে ইডি–র তল্লাশি অভিযানের প্রতিবাদে শুক্রবার পথে নেমেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ড থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়। শেষ হয় হাজরা মোড়ে। হাজরা মোড়ের সভায় রীতিমতো যুদ্ধংদেহী ছিলেন মমতা। আইপ্যাকের অফিসে ইডি অভিযানকে তিনি সরাসরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তথ্য চুরির ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেন। মমতার দাবি, নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করতেই এই হানা।
হাজরা মোড়ের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আইপ্যাককে আমরা অথরাইজ করেছি। ওরা আমাদের আইটি সেল দেখাশোনা করে। সেখানে ইডি সকাল ৬টায় ঢুকেছে। আমি পরে খবর পেয়েছি। ওরা আসলে ভোটার তালিকার ডেটা, বিএলএ–দের তালিকা এবং সাধারণ মানুষের দরখাস্ত চুরি করতে গিয়েছিল। সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে ওরা সব চুরি করেছে।’ তাঁর দাবি, এই চুরির মূল উদ্দেশ্য হল নির্বাচনের আগে তৃণমূলের পোলিং ম্যানেজমেন্টকে ভন্ডুল করে দেওয়া। মমতা বলেন, ‘চোরের মতো কেন এসেছো? তুমি চুরি করে সব মানুষের এসআইআর–এর ডাটা তুলে নিয়ে যাচ্ছ।’
এদিনের সভায় মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বেছে বেছে ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বড় অংশই মহিলা, সংখ্যালঘু এবং নতুন ভোটার। তিনি বলেন, ‘এসআইআর সেন্টারে সাধারণ মানুষকে ডেকে পাঠাচ্ছে। ৯০ বছরের বৃদ্ধা, নাকে নল লাগানো অসুস্থ রোগী, অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের তিন তলায় উঠতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটা কি ধরনের যাচাই? এটা তো অত্যাচার।’ মমতার অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পনা করে একটা নির্দিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে এই নামগুলো বাদ দিয়েছে।
হাজরা মোড়ের সভা থেকেই নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি দেন মমতা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আমাকে কী করবে? ঘেঁচু করবে। আমি আগেও বলেছি, সুস্থ বাঘের থেকেও আহত বাঘ আরও ভয়ঙ্কর। তুমি আমাকে একদিন আটকাবে, আমি ১০০ দিনের ফসল তুলে নেব।’ এরপরই তাঁর ঘোষণা, এই লড়াই আর শুধুমাত্র বাংলার মাটিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দিল্লি অভিযানের ডাক দেন। মমতা বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী ডেস্টিনেশন নির্বাচন কমিশন। আমরা বসে বসে ললিপপ খাব না তোমরা যদি ভাব আর্মি, বিএসএফ, সিআরপিএফ দিয়ে ভোট করাবে, তবে জেনে রাখো বাংলা তোমাদের সেই সুযোগ দেবে না।’