বৃহস্পতিবার যখন আইপ্যাকের মালিক প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সংস্থার অফিসে ইডি অভিযান চলছিল, সেই সময় মালদার জলঙ্গায় করছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাষণ দেওয়ার সময় একবারও ইডি–র অভিযানের ব্যাপারে মুখ খোলেননি। শুক্রবার নদীয়ার তাহেরপুরের সভায় অবশ্য ইডি–র হানা নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এসআইআরের সঙ্গে ইডি–র এই তল্লাশি অভিযানকে জুড়ে দিয়েছেন তিনি। অভিষেকের দাবি, এসআইআরের জন্য আইপ্যাক কাজ করায় ইডি–কে দিয়ে এই অভিযান করানো হয়েছে।
তাহেরপুরের সভায় অভিষেক বলেন, ‘তৃণমূলের জন্য ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একটা অ্যাপ তৈরি করেছে আইপ্যাক। দিদির দূত আইপ্যাক ওই অ্যাপ তৈরি করেছে। যাতে সাধারণ ভোটারদের কোনও অসুবিধা না হয়। আইপ্যাক কেন এসআইআরে তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে, কেন গরিব মানুষদের সাহায্য করছে, তার জন্য সেই ইডিকে দিয়ে অভিযান করিয়েছে।’ এই ব্যাপারে অভিষেক বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে হরণ করছে বিজেপি। এটাই বিজেপির ফর্মুলা।’
অভিষেক আরও সুর চড়িয়ে বলেন, ‘তোমাদের কাছে সব আছে ভাই, মানুষ নেই। তৃণমূলের কাছে কিছু নেই, মানুষ আছে। খেলা হবে। গণতন্ত্রে গণদেবতা তো শেষ কথা বলে। অমিত শাহ তো ভোট দেবেন না, নরেন্দ্র মোদী তো ভোট দেবেন না, মিডিয়ার লোক তো ভোট দেবেন না। ভোট দেবেন তো খেটে খাওয়া মানুষ। শ্রমিক, কৃষক, মা, ভাইরা। এমন জবাব দেবেন যেন ওদের অহংকার ভেঙে যেন চূর্ণবিচূর্ণ হয়।’
তাহেরপুরে জনসভা শেষ করে ঠাকুরনগরে জনসভা করেন অভিষেক। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাশাপাশি শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধেও সুর চড়ান তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। একের পর এক তোপ দেগে অভিষেক বলেন, ‘ভাবছে নির্বাচন কমিশনকে লাগিয়ে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেব, আর একদিকে ইডিকে লাগিয়ে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করব। তুমি ইডি লাগাও, সিবিআই লাগাও, কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগাও, মিডিয়া লাগাও, তুমি বিচার ব্যবস্থা লাগাও, ইনকাম ট্যাক্স লাগাও, তোমার কাছে যত অর্থবল রয়েছে সব লাগাও, কিন্তু বাংলার মানুষ বিজেপির জল্লাদদের কাছে, দিল্লির জমিদারদের কাছে মাথা নত করবে না।’ এরপর নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের পাশাপাশি শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘আজকে আওয়াজ তুলতেই হবে। হয় নিঃশর্ত নাগরিকত্ব, নইলে মোদী গদি ছাড়ো। হয় নিঃশর্ত নাগরিকত্ব নইলে অমিত শাহ গদি ছাড়ো। হয় নিঃশর্ত নাগরিকত্ব নইলে শান্তনু ঠাকুর দূর হটো।’