২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের জন্য ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ মেনে ২৭ নভেম্বর ৫৪ পাতার তালিকা প্রকাশ করে ছিল রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশন৷ সেই তালিকা অসম্পূর্ণ বলে উল্লেখ করে বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করার জন্য আবার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার এই নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
নির্দেশে বলা হয়েছে, অযোগ্য প্রার্থীর স্কুল, জেলা ও কোন ক্যাটাগরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তা উল্লেখ করে ফের বিস্তারিত তালিকা করতে হবে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে। গত বছর নভেম্বরে বিচারপতি অমৃতা সিনহা অযোগ্য প্রার্থীদের যে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাতে অযোগ্য প্রার্থীদের নামের সঙ্গে বাবার নাম, বিষয়, প্রার্থীর জন্মের তারিখ, অভিভাবকের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রার্থীর স্কুল, জেলা, কোন ক্যাটাগরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তা উল্লেখ করা হয়নি। ওই তালিকায় ১৮০৬ জন অযোগ্য প্রার্থীর নাম ছিল।
বুধবার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবীর কাছে দাগিদের তালিকায় র্যাঙ্ক জাম্প, প্যানেলের বাইরে থেকে চাকরি পাওয়া, এই বিষয়গুলি আলাদা আলাদা করে জানতে চান৷ কিন্তু স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবী বিস্তারিত বলতে পারেননি। স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবী বিস্তারিত তথ্য দিতে না পারায় বিচারপতি বলেন, ‘সব তথ্য যখন দিতে পারছেন না, তার মানে তালিকা সম্পূর্ণ নয়৷’ স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য আদালতকে বলেন, ‘যারা নিয়োগ পায়নি, তারা টেন্টেড নয়। আরও একটা তালিকা আমরা তৈরি করছি, তাতে সব তথ্য দেওয়া হবে।’ এরপরই বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দেন ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে৷ ওই দিন মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে৷
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী অযোগ্য প্রার্থীরা কোন ক্যাটাগরির টেন্টেড, তা উল্লেখ করে সম্পূর্ণ তথ্যসহ নতুন তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে৷ অযোগ্য প্রার্থীর র্যাঙ্ক জাম্প, ওএমআর শিট কারচুপি, অতিরিক্ত নিয়োগপ্রাপ্ত, যোগ্যতা সত্ত্বেও নিয়োগ পাননি, এইরকম সব ক্যাটাগরির অযোগ্য প্রার্থীর উল্লেখ থাকতে হবে তালিকায়। মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, ‘তালিকায় নাম, রোল নম্বর, ক্যাটাগরি উল্লেখ থাকা দরকার৷ তা উল্লেখ করা হয়নি৷ যারা ম্যানিপুলেট করেছে, তাদের মধ্যে যাদের নিয়োগ হয়নি তারাও অযোগ্য৷’ এদিকে, কমিশনের তালিকায় টেন্টেড বা অযোগ্যরা কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করতে চলেছেন। তাঁদের দাবি, কীসের ভিত্তিতে টেন্টেড বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, তা জানাতে হবে কমিশনকে।