রাজ্যে এসআইআর নিয়ে একের পর এক বিতর্ক উঠে আসছে। কোথাও অভিযোগ, বিএলও–রা বাড়ি বাড়ি না গিয়ে তৃণমূল পার্টি অফিসে বসে কাজ করছেন। কোথাও আবার অভিযোগ, এনুমিরেশন ফর্ম পূরণ করে তৃণমূল পার্টি অফিসে গিয়ে জমা দেওয়ার কথা বলছেন। কোথাও কোথাও আবার তৃণমূল পার্টি অফিসের পাশেই ক্যাম্প করে ফর্ম জমা নিচ্ছেন বিএলও–রা। প্রচণ্ড কাজের চাপের মাঝেই শোকজের শিকার হতে হচ্ছে। এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু, কাজের চাপে বিএলও–র অসুস্থ হয়ে পড়া এসবের মাঝেই নতুন বিতর্ক এনুমিরেশন ফর্মে মোবাইল নম্বর। আর এতেই বিপাকে পড়েছেন বিএলও–রা। রাতদিন ফোনে অতিষ্ঠ।
প্রত্যেকের কাছে মোবাইল নম্বর মানেই গোপনীয়তা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে আধার কার্ড, প্যান কার্ড, বিমার নথিপত্র, সবকিছুতেই ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দেওয়া থাকে। সেই মোবাইল নম্বর যদি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তো ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। এইরকম সমস্যায় পড়েছেন রাজ্যের ৮১ হাজার বিএলও। চরম সমস্যায় মহিলা বিএলও–রা। এই নিয়ে রাজ্য–রাজনীতি সরগরম।
প্রতিটা এনুমিরেশন ফর্মে বিএলও–দের মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে। এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর থেকেই বিএলও–দের শুরু হয়েছে ফোনের উৎপাত। রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বিএলও–রা। দিন নেই, রাত নেই একের পর এক ফোন এসে যাচ্ছে। নানারকম প্রশ্ন। কেউ জানতে চাইছেন কখন এনুমিরেশন ফর্ম জমা নিতে আসবেন, কারো আবার জিজ্ঞাসা কোন কলমে কী লিখতে হবে। জিজ্ঞাসার শেষ নেই। ফোনের এই সুনামি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন বিএলও–রা।
আরও পড়ুনঃ পরিকল্পনাহীন, এসআইআর স্থগিতের আবেদন জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখলেন মমতা ব্যানার্জি
সবথেকে বেশি উদ্বেগ মহিলা বিএলও–দের। গোপন নম্বর ছড়িয়ে পড়ায় উল্টোপাল্টা ফোন যে আসছে না, এমন নয়। কেউ কেউ অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে মাঝরাতে ফোন করে বিরক্ত করছে। কেউ কেউ আবার হুমকিও দিয়ে বসছেন, ভোটার তালিকায় নাম না উঠলে, কিংবা ভুল ফর্ম জমা দিলে দেখে নেবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা বিএলও বলছিলেন, ‘একদিন রাতে ঘুমিয়ে পড়েছি। হঠাৎ করে রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ একটা অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন। জিজ্ঞেস করছিল, তখন আমি কী করছি। ভাবুন তো, মাঝরাতে এইরকম উল্টোপাল্টা ফোন এলে কীভাবে সহ্য করব।’ আতঙ্কে পুলিশেও অভিযোগ জানাতে পারছেন না।
এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সমস্যা থেকে যে পরিত্রাণ পাবেন, এমন সম্ভাবনা দেখছেন না বিএলও–রা। অনেক বিএলও মনে করছেন, সমস্যা আরও বাড়বে। যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে, তারা তো জ্বালাতন করে মারবে। মোবাইল নম্বর যে পরিবর্তন করবেন, সে পরিস্থিতিও নেই। কারণ ব্যক্তিগত নম্বর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আধার কার্ড থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় দেওয়া রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারও অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া অপরাধ। নির্বাচন আধিকারিকদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর কি কমিশনের ওয়েবসাইটে রয়েছে? তাহলে বিএলও–দের নম্বর এভাবে কেন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে? রাজ্যের যে কোনও জায়গা থেকে বিএলওদের নম্বর পাওয়া যাচ্ছে। বিএলও–দের এইরকম ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, ভাবেনি নির্বাচন কমিশন? অনেকেই মনে করছেন, কমিশনের উচিত ছিল এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য বিএলও–দের আলাদা মোবাইল নম্বরের ব্যবস্থা করা। প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলেই ওই নম্বর নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া। ব্যক্তিগত নম্বর ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় বিশেষ করে মহিলা বিএলও–রা চরম বিপাকে।