এসআইআর আতঙ্কে চরম সিদ্ধান্ত নিলেন এক বুথ লেভেল অফিসার। কাজের চাপ না নিতে পেরে আত্মহত্যা করলেন মহিলা বিএলও। তাঁর বাড়ি কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলায়৷ মৃত বিএলও–র দেহের পাশ থেকে একটা সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দায়ী করেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি অভিযোগ জানিয়ে চিঠিও লিখেছেন মুখ্য নিবাচন আধিকারিককে।
মৃত বিএলও–র নাম রিঙ্কু তরফদার। বয়স ৫৪ বছর। তাঁর বাড়ি কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানার ষষ্ঠীতলা এলাকার মহীতোষ বিশ্বাস স্ট্রিটে। আদি বাড়ি চাপড়াতে। চাপড়ার বাঙালঝি স্বামী বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরে পার্শ্ব শিক্ষকের চাকরি করতেন রিঙ্কু। সম্প্রতি কৃষ্ণনগরে বাড়ি কিনে সপরিবার বাস করতেন। তাঁর স্বামী আশিস তরফদার পেট্রোল পাম্প ও বাসের মালিক। রিঙ্কুর এক ছেলে ও এক মেয়ে। কয়েকমাস আগে মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে অরিত্র গুয়াহাটিতে পিএইচডি করছেন।
চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্রের ২০১ নম্বর বুথের বিএলও ছিলেন রিঙ্কু তরফদার। কিছুদিন ধরেই বিএলও–র কাজ নিয়ে চাপের মধ্যে ছিলেন। পরিবারের দাবি, এই নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে তিনি সবসময় দুশ্চিন্তা করতেন। শুক্রবার অনেক রাত পর্যন্ত জেগেছিলেন রিঙ্কু। তারপর ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রী–কে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখঁুজি শুরু করেন স্বামী আশিষ তরফদার। তিন তলার ঘরের মধ্যে গিয়ে দেখেন গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন রিঙ্কু।
রিঙ্কুর পাশ থেকে একটা সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সেই সুইসাইড নোটে তিনি মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন। রিঙ্কু সুইসাইড নোটে লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী। আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এই সামান্য চাকরির জন্য এরা আমাকে মরতে বাধ্য করল। কাজ সম্পূর্ণ করতে না পারলে প্রশাসনিক চাপ আসত। এই চাপ আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়।’
আরও পড়ুনঃ কলকাতা মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি ছাত্রীর শ্লীলতাহানি অধ্যাপকের! তুমুল বিক্ষোভ, অপসারিত বিভাগীয় প্রধান
অফলাইনের কাজ প্রায় সব শেষ করে ফেলেছিলেন রিঙ্কু। কিন্তু অনলাইনের কাজগুলো ঠিকমতো করে উঠতে পারছিলেন না। কারণ, অনলাইনের ব্যাপারে তিনি ততটা দক্ষ ছিলেন না। এটাই তাঁকে চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন রিঙ্কু। সূত্রের খবর, বিডিও–র কাছে গিয়ে নাকি বিএলও কাজ থেকে অব্যাহতিও চেয়েছিলেন। এমনকী, চাকরি ছেড়ে দিতেও চেয়েছিলেন। আত্মহত্যা করার আগে এনুমারেশন ফর্মগুলি পাশের বুথের বিএলও–র কাছে রেখে দিয়েছিলেন। সেকথাও সুইসাইড নোটে উল্লেখ করেছেন তিনি। রিঙ্কুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
রিঙ্কু তরফদারের মৃত্যুর জন্য তৃণমূল কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন। পরিবারের অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। জ্ঞানেশ কুমারকে দেওয়া চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আপনি রিঙ্কু কর্মকারের আত্মহত্যার একজন সহায়ক এবং প্ররোচনাকারী। আপনার তৈরি বিশৃঙ্খলার কারণে রিঙ্কু অকাল মৃত্যুবরণ করেছেন। আপনিই রিঙ্কুর মৃত্যুর জন্য দায়ী।’ চিঠিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের ওপর চাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি মহুয়া মৈত্র উল্লেখ করেছেন, রিঙ্কু যে সুইসাইড নোট রেখে গেছেন, সেখানে নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।