নদীয়ার হাঁসখালিতে নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হল তৃণমূল নেতার ছেলেসহ তিনজনের। সাজাপ্রাপ্ত ৩ জন হল সোহেল গয়ালি, প্রভাকর পোদ্দার ও রঞ্জিত মল্লিক। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তৃণমূল নেতা, তৎকালীন পঞ্চায়েত সদস্য সমরেন্দ্র গয়ালিকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সাজা ঘোষণা করেছে রানাঘাট মহকুমা আদালত। ২২ ডিসেম্বর, সোমবার ৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত।
২০২২ সালের ৪ এপ্রিল নদীয়ার হাঁসখালি থানা এলাকায় এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। মেয়েটির পরিবার অভিযোগ করে, তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতে জন্মদিনের পার্টির নামে ১৪ বছরের কিশোরীকে ডেকে মদ খাইয়ে গণধর্ষণ করা হয়। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় কিশোরীকে ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। প্রবল রক্তক্ষরণের ফলে ওই নাবালিকার মৃত্যু হয়। কিন্তু মৃত্যুর পর কোনও চিকিৎসকের ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়াই তড়িঘড়ি গ্রামের এক শ্মশানে নাবালিকাকে দাহ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ঘটনার চারদিন পর কিশোরীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। হাঁসখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন তৃণমূল সদস্য সমরেন্দ্র গয়ালির ছেলে ব্রজ গয়ালিসহ বেশ কয়েকজনের নামে অভিযোগ করা হয়৷ প্রথমে রাজ্য পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে৷ সিবিআই তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত শুরু করে। তদন্তে নেমে সিবিআই বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্ত শুরু করার পর ৮৫ দিনের মাথায় সিবিআই আদালতে ২০৯ পাতার চার্জশিট জমা দেয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার শেষে ৩ বছর ৮ মাস ৯ দিন পর ২২ ডিসেম্বর রানাঘাট মহাকুমা আদালত ৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। মঙ্গলবার দোষীদের সাজা ঘোষণা করলেন বিচারক। এদিন সকাল থেকেই আদালত চত্বরে ব্যাপক নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ে দোষীদের আদালতে হাজির করানো হয়। সাজা ঘোষণার পর মৃতার পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচার পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে।
মামলায় মূল দোষী ব্রজ গয়ালি, রঞ্জিত মল্লিক, প্রভাকর পোদ্দারকে ৩৭৬ (ডিএ) গণধর্ষণ মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়াও ৬ পকসো অ্যাক্টে ২০ বছর, ৫০৬ ধারায় ৭ বছর, ২০১ ধারায় ৩ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। এরই সঙ্গে আরও বিভিন্ন ধারায় জরিমানাও করা হয়েছে দোষী তিনজনকে৷ এছাড়া বাকি তিন দোষী সমরেন্দ্র গয়ালি, দীপ্ত গয়ালি এবং পীযূষ ভক্তকে ৫০৬ ধারায় ৫ বছর ও ২০১ ধারায় ৩ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে৷ দুই অভিযুক্ত সুরজিৎ রায় ও আকাশ বারুইয়ের বয়স কম হওয়ার কারণে তাদের নিজস্ব বন্ডে (৫০ হাজার) এক বছরের জন্য ছাড়া হয়েছে। এই এক বছরে তাদের আচার–আচরণ ভাল থাকলে তারা মুক্তি পাবে। না হলে এই রায় আবার বাতিল হতে পারে৷ আর এক দোষী অংশুমান বাগচিকে ২০১ ধারায় ৩ বছর ও ১০২(বি) ধারায় ৩ বছর কারদণ্ড দেওয়া হয়েছে।