নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে চরম অপমানিত রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য৷ বৈঠকের মধ্যেই তাঁকে ‘ডোন্ট শাউট’ বলে চুপ করার নির্দেশ দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সর্বদলীয় বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে এমনি দাবি করেছেন চন্দ্রিমা। অন্যান্য দলের নেতাদের সামনে এইরকম দুর্ব্যবহার করায় চরম অপমানিত রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী। এই নিয়ে উত্তাল রাজ্য–রাজনীতি৷
রাজ্যের নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন নির্বাচন কমিশনের কর্তারা৷ ৮টি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের বৈঠককে ডাকা হয়েছিল। বৈঠকে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী রাজীব কুমার৷ বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে দূর্ব্যবহার করা হয়েছে।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের কথা শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে গেলেন৷ আমাদের বলেন, আপনারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন তারপর তো আর কিছু বলার নেই৷ আমি একজন মহিলা, আমাকে বলে কিনা ডোন্ট শাউট।’ চন্দ্রিমা আরও বলেন, ‘আমার চিৎকার করার কোনও অভিপ্রায় ছিল না৷ ওদের মনে হয়েছে আমার গলায় একটু জোর বেশি৷ একজন মহিলাকে কী করে বলেন, চেঁচাবেন না ? আমরা যখন জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলছি তখন আওয়াজ তুলব না?’
এদিকে, বৈঠকে সব দলই রাজ্যে এক কিংবা সর্বোচ্চ দু’দফায় ভোট করানোর আর্জি জানিয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য কমিশনকে সবধরণের সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআইএম রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়ে সরব হয়েছে। বিজেপি অবশ্য এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে কোনও প্রসঙ্গ তোলেনি। সিপিএমের পক্ষ থেকে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মহম্মদ সেলিম, আফ্রিন বেগম ও শমীক লাহিড়ী। কংগ্রেস প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রদীপ ভট্টাচার্য, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়।