সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে বেলডাঙ্গায় বাবরি মসজিদ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৬ ডিসেম্বর মহা ধুমধাম করে মসজিদের শিলান্যাসও করেছেন। এই নিয়ে একদিকে যেমন সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তেমনই অনেকেই পাশে দাঁড়িয়েছেন। মসজিদ তৈরি নিয়ে সরকারকে একের পর এক চ্যালেঞ্জ ছঁুড়ে দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। এবার খুনের আশঙ্কা করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক। তাই হায়দরাবাদ থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৮ জন নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে এলেন হুমায়ুন কবীর। বুধবার থেকেই তাঁরা হুমায়ুনের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন।
হায়দরাবাদের পাওয়ার সিকিউরিটি সার্ভিসেস নামে এক বেসরকারি সংস্থা থেকে নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে এনেছেন হুমায়ুন কবীর। হঠাৎ করে কেন হায়দরাবাদ থেকে নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে এলেন তিনি, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কৌতুহল বাড়ার আরও কারণ, আসাদউদ্দিন ওয়েইসির সঙ্গে এর কোনও যোগসূত্র আছে কিনা, তা নিয়ে। নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে আসার ব্যাপারে হুমায়ুন কবীর বলেছেন, ‘আমাকে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার পরিবার এবং বন্ধুদের অনেকেরই ব্যক্তিগত লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র আছে। অন্যের নিরাপত্তায় সেগুলি ব্যবহারের ব্যাপারে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই হায়দরাবাদের এক সংস্থার থেকে এই নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে আসা হয়েছে।’
হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, ‘এক পরিচিতের মাধ্যমে ওই সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। যত দিন না আদালতের নির্দেশে নিরাপত্তা পাচ্ছি, তত দিন এই নিরাপত্তারক্ষীরা সর্বক্ষণ আমার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।’ বিধায়ক হওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। তিনজন কনস্টেবল হুমায়ুনের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, সাসপেন্ড হওয়ার পর সরকার তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহার করতে পারে। বুধবার পর্যন্ত অবশ্য হুমায়ুনের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ হত্যার ষড়যন্ত্র? শাহজাহানের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষী দিতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় আহত ভোলানাথ ঘোষ, নিহত ছেলে
হুমায়ুনের বাবরি মসজিদ শিলান্যাস এবং নিজের আলাদা দল করার ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দলের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। হুমায়ুন নিজেই সেই জল্পনা উস্কে দিয়ে বলেছেন, ‘ওয়েইসি সাহেবের সঙ্গে আমি জোট করব। মিমের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। হায়দরাবাদে আমায় আহ্বান করেছেন। আমি গিয়ে আলোচনায় বসব।’
মসজিদের শিলান্যাস হয়ে গেলেও জমি জটে পড়েছেন হুমায়ুন কবীর। মসজিদ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৩০ বিঘা জমি জোগাড় করতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। প্রথমে ঠিক করেছিলেন বেলডাঙায় মসজিদ গড়বেন। জমির অভাবে রেজিনগর থানার ছেতিয়ানিতে তিন কাঠা জমির ওপর প্রতীকী শিলান্যাস করেছেন। জমির সন্ধানে জমিদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন তৃণমূলের নির্বাসিত বিধায়ক। হুমায়ুনের বাবরি মসজিদের ট্রাস্টি বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ মইনুল হক অবশ্য জানিয়েছেন, ২৫ বিঘা জমির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। বেলডাঙার মির্জাপুর থেকে রেজিনগরের ছেতিয়ানি এলাকার মধ্যে জমি মালিকদের সঙ্গে কথা অনেকটাই এগিয়েছে।