আবার বিতর্কে জড়ালেন শওকত মোল্লা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হেরে গেলে লক্ষ্মী ভাণ্ডার প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই বিধায়ক। দল অবশ্য তাঁর এই বক্তব্য সমর্থন করেনি। কিন্তু রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি শওকত মোল্লার এই বক্তব্য নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর আক্রমণ তীব্র করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্য বাজেটে ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’ তহবিলের পরিমাণ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের জন্য প্রতিশ্রুত মাসিক পরিমাণ ১,০০০ থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ করা হয়েছে। বিরোধীরা সরকারের এই বিনামূল্যের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং এটাকে নির্বাচনী ঘোষণা বলে অভিহিত করেছে। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক শওকত মোল্লা লক্ষ্মী ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের দেওয়া ভাতা বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়ে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে শওকত মোল্লা বলেন, যদি তিনি তাঁর আসনে পরাজিত হন, তাহলে সরকারি পরিষেবা বা অর্থ বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি আরও দাবি করেন যে, যেখানেই তিনি হেরেছেন, সেখানেই সরকারি তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শওকত বলেন, ‘ভাঙড়ের যে তিনটি এলাকায় আমি হেরেছি, সেখানেই তহবিল বন্ধ করে দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দাদা খাবেন আর কাকা গান গাইবেন! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাকা দেবেন এবং তারপর তাঁর সমালোচনা করবেন, এটা হবে না।’
শওকত এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের উদ্দেশ্যে একটা বার্তাও দিয়েছেন। তিনি বলেন, সিএমআরও–তে যাদের নাম এসেছে, তাদের কোনও টাকা দেওয়া উচিত নয়। শওকত সতর্ক করে বলেছেন যে, আগামী দিনে লক্ষ্মী ভান্ডারসহ অন্যান্য সরকারি পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনে ভাঙড়ের চালতবেড়িয়া, শানপুকুর এবং পোলারহাট ১ এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস আইএসএফের কাছে হেরেছে।
শওকত মোল্লার এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসও বিধায়কের বক্তব্য থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। তৃণমূল মুখপাত্র স্পষ্টভাবে বলেন, ‘এটা দলের অবস্থান নয়। তিনি ব্যক্তিগত পর্যায়ে কথা বলছেন। আমরা আলিপুরদুয়ার এবং পূর্ব মেদিনীপুরেও বেশ কয়েকটি আসন হেরেছি। সেখানে সরকারি প্রকল্পের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। দল অবশ্যই দলের পক্ষ থেকে কথা বলবে।’
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বিজেপি–র নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেছেন যে, যদি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করে, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কাজ করে জনগণের কথা মাথায় রেখে একটা শক্তিশালী বাজেট তৈরি করবেন, যার লক্ষ্য হবে পশ্চিমবঙ্গকে উন্নত করা। ডঃ সুকান্ত মজুমদার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলার মানুষ প্রভাবিত হচ্ছে এবং অন্য রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস মূলত বাঙালিদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠেছে। রেজিনগরের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি তৃণমূল মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীকে একজন নাবালককে মারধর করার অভিযোগ এনে বলেন, এটা শাসক দলের মানসিকতাকে প্রতিফলিত করে।