ভারতের পার্লে প্রোডাক্ট সংস্থা তাদের অত্যন্ত জনপ্রিয় বিস্কুট ব্র্যান্ড ‘পার্লে–জি’ একটা নতুন প্রচারমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। এই প্রচারের মূল বার্তা, ‘অন্যের খুশিতেই নিজের খুশি খুঁজে পাওয়া’র ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের গল্পের মাধ্যমে এই বার্তাটি তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রচারমূলক কার্যক্রমের সর্বশেষ সংযোজন হল ছোট অথচ আবেগঘন কিছু গল্পের সিরিজ, যেখানে দেখানো হয়েছে ছোটখাটো ভাল আচরণও কীভাবে কারও জীবনে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে পারে।
এই ভিডিওগুলিতে এমন সব মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে, যা সকলের কাছেই পরিচিত ও সর্বজনীন। ‘স্কুল ড্রপ’ গল্পে দেখা যায়, এক স্কুলছাত্রী স্কুলে নতুন আসা এক ভীতু ছাত্রকে স্বাগত জানাচ্ছে। ‘ফ্যামিলি ট্রি’–তে এক কিশোর তার অন্তঃসত্ত্বা ও ঘরে বসে কাজ করা মায়ের মন ভালো করে দেয় একটা সুন্দর ও বিবেচনাসম্পন্ন কাজের মাধ্যমে। আর ‘অসুর’ গল্পে দেখা যায়, এক শিশু তার সহশিল্পী বন্ধুকে বিস্কুট খেতে সাহায্য করছে। সেই বন্ধুর পরনে ছিল ভারী ও জমকালো সাজপোশাক, যা তাকে নিজের হাতে বিস্কুট খেতে সমস্যায় ফেলছিল।
নতুন ধরণের এই প্রচার সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে পার্লে প্রোডাক্টসের চিফ মার্কেটিং অফিসার মায়াঙ্ক শাহ বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে পার্লে–জি প্রতিভার এমন এক সংজ্ঞাকে উদযাপন করে আসছে যা সাফল্যের প্রথাগত মাপকাঠিকে ছাড়িয়ে যায়। ‘জি মানে জিনিয়াস’–এর এই নতুন অধ্যায়ের মাধ্যমে আমরা এমন একটা গুণকে তুলে ধরতে চেয়েছি, যা আজকাল প্রায়শই উপেক্ষিত হয়, আর তা হল অন্যের জন্য আনন্দ সৃষ্টি করার ক্ষমতা। প্রতিটি ভিডিওতে এই আইকনিক বিস্কুটটি মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। প্রতিটি গল্পের বুননে ব্র্যান্ডটিকে এমনভাবে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে এটা কেবল একটা নিষ্ক্রিয় উপস্থিতি না হয়ে বরং সহমর্মিতা ও মানবিকতা প্রকাশের মাধ্যম হয়ে ওঠে।’
‘থট ব্লার্ব কমিউনিকেশনস’–এর প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসার বিনোদ কুঞ্জ বলেন, ‘এই ভিডিওগুলোর দীর্ঘস্থায়ী আবেদনের মূল কারণ হল এদের অনাড়ম্বর সরলতা। দর্শককে এমন এক দৃশ্যমান যাত্রায় নিয়ে যাওয়া হয় যা নতুন কিছু আবিষ্কার থেকে শুরু করে সম্পৃক্ততা ও বুদ্ধদীপ্ত কাজের মধ্য দিয়ে সহমর্মিতার পর্যায়ে পৌঁছায়, আর এসবই ঘটে মাত্র ২০ সেকেন্ডের মধ্যে। এই বিষয়টি সফলভাবে ফুটিয়ে তোলাই ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল এমন সব আবেগঘন কাহিনি তৈরি করা, যেখানে প্রতিটি গল্পের মধ্যে ব্র্যান্ডটির ভূমিকাও অর্থবহ হয়ে ওঠে। দীর্ঘ কোনও কাহিনিচিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে যে ধরনের শৈল্পিক ও চলচ্চিত্রসুলভ মনোযোগ দেওয়া হয়, আমরা এই বিজ্ঞাপনগুলোর ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছিলাম। আর এ কারণেই এই প্রকল্পের পুরো কলাকুশলী দলটিকে মূলধারার ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ থেকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। আমরা বিষয়বস্তুর সত্যতা, অভিনয় এবং দৃশ্য-নির্ভর গল্প বলার কৌশলের ওপর জোর দিয়েছিলাম, যাতে আবেগগুলো স্বাভাবিক ও হৃদয়গ্রাহী মনে হয়।’