পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগে ভারতীয় বিমান বাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত কর্তাকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। শুক্রবার রাতে কুলেন্দ্র শর্মা নামে ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি তেজপুরের পটিয়া এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ওপর নিয়মিত নজরদারি চালানোর পর কুলেন্দ্র শর্মাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই কুলেন্দ্র শর্মার ওপর তারা কড়া নজর রাখছিল। নজরদারি চালানোর সময় পুলিশ জানতে পারে যে, তিনি পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের কাছে সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করছে। এরপরই কুলেন্দ্রকে গ্রেফতার করে। পুলিশ তাঁর মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করেছে, সেগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন যে, মোবাইল ও ল্যাপটপ থেকে অনেক তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে, যার জন্য একটি বিস্তারিত ফরেনসিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
পুলিশের মতে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, অভিযুক্ত কুলেন্দ্র শর্মা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানি গুপ্তচরবৃত্তি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংবেদনশীল নথি এবং তথ্য ভাগ করে নিয়েছিলেন। তার মোবাইল ফোনের ডেটাতে সন্দেহভাজন পাকিস্তানি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তথ্য আদান–প্রদানের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে, তথ্য ভাগাভাগির সঠিক সময়কাল এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অসমের শোণিতপুরের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ হরিচরণ ভূমিজ বলেছেন যে, ‘কুলেন্দ্র শর্মার পাকিস্তানের সঙ্গে যোগসূত্রের সন্দেহ প্রবল। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিতভাবে কিছু বলতে পারব না।’ অবসর গ্রহণের আগে কুলেন্দ্র শর্মা তেজপুরের বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে জুনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই বিমান ঘাঁটিতে সুখোই ৩০ স্কোয়াড্রনসহ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান রয়েছে। ২০০২ সালে বিমান বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন কুলেন্দ্র শর্মা। বিমান বাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স বিভাগে কাজ করেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বেশ কয়েকটি ধারায় কুলেন্দ্র শর্মার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক কুলেন্দ্রকে পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।