হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালার র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে মারা গেলেন এক কলেজ ছাত্রী। অভিযোগ, ১৯ বছর বয়সী ওই দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীর ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তিন ছাত্রী ও এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ নিয়ে আসা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মৃত্যুর আগে ছাত্রীটি তাঁকে নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে মোবাইলে একটা ভিডিও রেকর্ডিং করেছেন। অধ্যাপক কীভাবে তাঁর গোপন জায়গায় খারাপভাবে স্পর্শ স্পর্শ করেছিলেন, তা বর্ণনা করেছেন। এছাড়া মানসিক ও যৌন হয়রানির আরও বেশ কয়েকটি ঘটনার কথাও বর্ণনা করেছেন ওই ছাত্রী।
ধর্মশালার সরকারি ডিগ্রি কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করতেন ওই নির্যাতিতা। ২৬ ডিসেম্বর লুধিয়ানার ডিএমসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মারা যাওয়ার আগে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেছেন, ক্রমাগত শারীরিক নির্যাতন, হয়রানি এবং মানসিক আঘাতের কারণে মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
ওই ছাত্রী ২০২৪ সালে ধর্মশালার সরকারি ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষেই র্যাগিংয়ের শিকার হন। বিএ প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় ফেল করেন এবং ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ফলাফল ঘোষণার পর কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দেন। ২১ আগস্ট তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরে আবার কলেজে ভর্তি হন।
ছাত্রীর বাবা পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, ১৮ সেপ্টেম্বর হর্ষিতা, আকৃতি এবং কমলিকা নামে তিনজন ছাত্রী তাঁর মেয়ের ওপর নৃশংসভাবে অত্যাচার চালায়। এরপর বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে না আসার জন্য হুমকি দেয়। তিন ছাত্রী ছাড়াও কলেজের অধ্যাপক অশোক কুমারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানান ওই নির্যাতিতা ছাত্রীর বাবা। অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়ার এবং তাঁর মেয়েকে মানসিক হয়রানি ও ভয় দেখানোর অভিযোগও করেন। তিনি দাবি করেন যে, এই ঘটনার পর ছাত্রীটি তীব্র মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয় এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যার ফলে বারবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
বাবা জানিয়েছেন, মেয়ের আঘাতের কারণে এবং চিকিৎসাধীন থাকায় আগে থানায় অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৭৫ (যৌন হয়রানি), ১১৫(২) (স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা) এবং ৩(৫) (সাধারণ উদ্দেশ্য) এবং হিমাচল প্রদেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের র্যাগিং আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩–এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কাংড়ার পুলিশ সুপার অশোক রতন বলেছেন, ‘আমরা ছাত্রীর বাবার অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার ক্রম প্রতিষ্ঠা এবং দোষী নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের মেডিকেল রেকর্ড, ভিডিও প্রমাণ এবং বিবৃতি পরীক্ষা করা হচ্ছে। মৃত্যুর আগে ছাত্রীটি যে যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল, সেই সমস্ত হাসপাতালে তদন্ত করা হবে।’ মৃত্যুর আগে ছাত্রীটির রেকর্ড করা একটা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর মামলাটি ব্যাপকভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
কলেজের অধ্যক্ষ রাকেশ পাঠানিয়া বলেছেন যে, পরিবার আগে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি। তিনি বলেন, ‘ছাত্রীটি প্রথম বর্ষে তিনটি বিষয়ে ফেল করেছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশিকা অনুসারে তাকে দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি করা হয়নি। তাকে বলা হয়েছিল, আবার প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে হবে। পরীক্ষার ফলাফলের কারণেও সে হতাশ ছিল। শিক্ষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সে ২৯ জুলাই থেকে ক্লাসে যোগ দেয়নি।’ অধ্যক্ষ দাবি করেছেন যে, কলেজ কর্তৃপক্ষ এর পরে কিশোরীর বাবা–মাকে ফোন করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কোনও সাড়া পায়নি।