একজন সরকারি কর্মচারীর বেতন বাড়াতে বা মহার্ঘ্য ভাতা দিতে সরকারের কতই না টানা পোড়েন। অর্থভাণ্ডার যেন শূন্য হওয়ার উপক্রম। অথচ বিধায়ক কিংবা সাংসদদের বেতন বাড়াতে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয় না। ওড়িশা সরকার বিধানসভায় এমন একটা বিল পাশ করেছে, শুনলে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যাবে। ওড়িশার বিধায়করা এবার থেকে মাসে বেতন পাবেন ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। ওড়িশার বিজেপি সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং বিরোধী দলনেতার বেতন এবং প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশনও প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
২০০৭ সাল থেকে বেতন বাড়ানোর দাবি করে আসছিলেন বিধায়করা। কিন্তু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক রাজি হননি। কিন্তু ওড়িশার রাজনীতিতে পট পরিবর্তন হতেই আবার নতুন করে বেতন বাড়ানোর দাবি উত্থাপন করেন বিধায়করা। বিজেপি সরকারে আসার পর বেতন বাড়ানোর জন্য বিধানসভায় দাবি ওঠে। বিশেষ করে বিজেপি বিধায়করাই জোরালো দাবি তোলেন। সরকার অবশেষে সেই দাবি মেনে বেতন বৃদ্ধি করল। আগে ওড়িশা বিধানসভার সদস্যদের মাসিক বেতন ছিল ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা। এবার থেকে পাবেন ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। বেতন বৃদ্ধির হার প্রায় ৩.১০ গুন।
২০২৪ সালের জুন মাস থেকে অর্থাৎ যেদিন ১৭তম বিধানসভা গঠিত হয়েছিল, সেইদিন থেকে এই বর্ধিত বেতন কার্যকর হবে, যখন ১৭তম বিধানসভা গঠিত হয়েছিল। এই বর্ধিত বেতন বৃদ্ধির জন্য চারটি বিল সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে পাস হয়েছে। বিধায়ক এবং প্রাক্তন বিধায়কদের বেতন ও পেনশন বৃদ্ধির চারটি বিল অনুমোদনের জন্য সকল সদস্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। ওড়িশা বিধানসভার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মুকেশ মহালিং বলেন, বর্ধিত বেতন ২০২৪ সালের জুন থেকে কার্যকর হবে। তিনি আরও জানান, বিলগুলিতে এমন একটা বিধানও রয়েছে, কোনও বর্তমান বিধায়কের মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা সহায়তা, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর বেতন, ভাতা এবং পেনশন বৃদ্ধি করা হবে।
আরও পড়ুনঃ অবৈধভাবে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ভাইকে, আদিয়ালা জেলের বাইরে বিক্ষোভ অবস্থান ইমরান খানের তিন বোনের
বর্তমানে একজন ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা মিলিয়ে প্রায় ১.১১ লক্ষ টাকা মাসিক প্যাকেজ পান। এখন, প্যাকেজটি হবে ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। বিলের বিধান অনুসারে, একজন বিধায়কের বেতন ৯০০০০ টাকা হবে। নির্বাচনী এলাকা/সচিব ভাতা হিসেবে ৭৫০০০ টাকা, পরিবহন ভাতা হিসেবে ৫০০০০ টাকা, বই, জার্নাল এবং সাময়িকী ভাতা হিসেবে ১০০০০ টাকা, বিদ্যুৎ বিলের জন্য ২০০০০ টাকা, স্থায়ী ভ্রমণ ভাতা হিসেবে ৫০০০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৩৫০০০ টাকা এবং টেলিফোন ভাতা হিসেবে ১৫০০০ টাকা পাবেন।
একজন প্রাক্তন বিধায়ক পেনশন হিসেবে ১.১৭ লক্ষ টাকা পাবেন। যার মধ্যে ৮০০০০ টাকা পেনশন, ২৫০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং ১২৫০০ টাকা ভ্রমণ ভাতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি মেয়াদের জন্য একজন বিধায়ক অতিরিক্ত ৩০০০ টাকা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী প্রতি মাসে ৩ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা পাবেন। বিধানসভার স্পিকার এবং উপ–মুখ্যমন্ত্রী প্রত্যেকে ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা, ডেপুটি স্পিকার এবং প্রতিমন্ত্রী ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা এবং মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতা প্রতি মাসে ৩ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা পাবেন। সরকারি প্রধান হুইপ এবং তাঁর ডেপুটি যথাক্রমে প্রতি মাসে ৩ ল৭ ৬২ হাজার ও ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বেতন পাবেন।