এই মুহূর্তে বিশ্বের এক নম্বর টি২০ ব্যাটার অভিষেক শর্মা। অন্তত আইসিসি–র র্যাঙ্কিংই তাই বলছে। কিন্তু কী হাল বিশ্বের সেরা টি২০ ব্যাটারের? পাকিস্তান ম্যাচের পর আবার শূন্য! এবার খালি হাতে ফিরতে হল নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে। যদিও তাঁর এই ব্যর্থতা দলের পারফরমেন্সে প্রভাব ফেলল না। নেদারল্যান্ডকে ১৭ রানে হারিয়ে গ্রুপ লিগে ৪ ম্যাচেই জয় তুলে নিল ভারত। তবে অভিষেক শর্মার এই ব্যর্থতা সুপার এইটের আগে চিন্তায় রাখবে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে। চিন্তায় রাখবে নেদারল্যান্ডের মতো টিমেরও বড় রানে পৌঁছে যাওয়া।
আমেদাবাদে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত। অভিষেক শর্মার তাণ্ডব আটকাতে ইদানিং একটা স্ট্র্যাটেজি নিচ্ছে বিপক্ষ দলগুলি। শুরুতেই স্পিন আক্রমণ নিয়ে আসা। আসলে অভিষেক দ্রুত ব্যাটে বল আসাটা পছন্দ করেন। কিন্তু স্পিনাররা আক্রমণ শুরু করতেই সমস্যায় পড়ছেন। নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও তাই। আরিয়ান দত্তের প্রথম দুটি বলে রান না পেয়ে তৃতীয় বল আড়াআড়ি ভাবে শট খেলতে গিয়েছিলেন। লাইন মিস করে বোল্ড অভিষেক (০)। ভারতের স্কোর বোর্ডে তখন কোনও রান ওঠেনি।
ঈশান কিষাণ যথারীতি তাণ্ডব শুরু করেছিলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ী হননি। ৭ বলে ১৮ রান করে তিনিও আরিয়ান দত্তের শিকার। দুই ডাকাবুকো ওপেনার শুরুতেই ফিরে যাওয়ায় চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। ফলে রান তোলার গতিও কমে যায়। তিলক ভার্মা (২৭ বলে ৩১), সূর্যকুমার যাদবরা (২৮ বলে ৩৪) ঝড় তুলতে পারেননি। ভারতের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান শিবম দুবে। ৩১ বলে ৬৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ২১ বল ৩০ রান করেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত তোলে ১৯৩/৩। আরিয়ান দত্ত ৮ ওভারে ১৯ রানে ২ উইকেট নেন।
জয়ের জন্য নেদারল্যান্ডসের কাছে ১৯৪ রানের লক্ষ্যটা ছিল যথেষ্ট চাপের। ৮ ওভারের মধ্যে ৫১ রানে ২ উইকেট হারানোর পরও দারুণ লড়াই করল। ১৩ তম ওভারে বরুণ চক্রবর্তী পরপর ২ বলে কলিন (২৩) ও আরিয়ানকে (০) তুলে না নিলে লড়াই হয়তো আরও জমত। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৭৬/৭ রানে পৌঁছয় নেদারল্যান্ডস। সর্বোচ্চ রান করেন বাস ডি লিড (২৩ বলে ৩৩)। এছাড়া ড্যাক করেন ২৬, নোয়া ২৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। বরুম চক্রবর্তী ১৪ রানে ৩ উইকেট নেন।
টানা ৪ ম্যাচে জয় পেলেও ভারতীয় দলকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠছে। দুর্বল দলগুলিও কিন্তু বড় রান করছে। এছাড়া অভিষেক শর্মাকে আটকানোর স্ট্র্যাটেজিও খুঁজে বার করেছে বিপক্ষ দলগুলি। যেমন, এদিন হল্যান্ডও পরিকল্পনা করে আউট করল অভিষেককে। ভারতকে এর থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তা খুঁজতে হবে। কারণ, সুপার এইটের দলগুলির নাম দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবোয়ে।