ঘরোয়া ক্রিকেটে সাফল্য সত্ত্বেও উপেক্ষিত। তিনি যে ফুরিয়ে যাননি, বারবার প্রমাণ করে দিয়েছেন। রনজি ট্রফিতে বাংলার হয়ে একের পর এক উইকেট তুলে নিয়েছেন। নিজের ফিটনেসেরও প্রমাণ দিয়েছেন। তবুও নির্বাচকরা ফিরেও তাকাননি। বারবার অভিমান ঝড়ে পড়ত। সেই একরাশ অভিমান নিয়েই লাল বলের ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন মোহাম্মদ সামি। বাংলার এই জোরে বোলারকে আর টেস্ট ক্রিকেটে দেখা যাবে না। তবে টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ালেও সাদা বলের ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাবেন। শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে লাল বলের ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেছেন সামি।
সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় মহম্মদ সামি বলেছেন, ‘সাদা জার্সিকে চিরতরে বিদায় জানাচ্ছি। কিন্তু এই সাদা জার্সির সঙ্গে যে স্মৃতি জড়িয়ে আছে, তা সারাজীবন মনে গেঁথে থাকবে। টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ার পর একটাই স্বপ্ন দেখতাম, দেশের হয়ে কিছু করতে হবে। তারপর থেকে প্রতিটা মুহূর্ত আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেট আমার জীবনের একটা কাহিনী হয়ে উঠেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘টেস্টকে বিদায় জানালেও সাদা বলে খেলা চালিয়ে যাব। আইপিএলে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে সাদা বলে খেলব।’
২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল সামির। সেই ৬ নভেম্বরই তিনি টেস্ট থেকে সরে দাঁড়ালেন। এই ১৩ বছরে দেশের জার্সি গায়ে মোট ৬৪টি টেস্ট খেলেছেন। উইকেট নিয়েছেন ২২৯টি। গড় ২৭.৭১। সেরা বোলিং ৫৬ রানে ৬ উইকেট। বিদেশের মাঠে ৪১ টেস্টে উইকেট নিয়েছেন ১৪৫টি। অভিষেক টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১৮ রানে ৯ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন সামি। ৬৪ টেস্টে রান করেছেন ৭৫০, সর্বোচ্চ ৬৫। হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে ২টি।
২০২৩ সালে শেষবার টেস্ট খেলেছিলেন মহম্মদ সামি। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। তারপর থেকে টেস্ট দলে ব্রাত্য। শুধু টেস্ট দলেই নয়, ২০২৩ বিশ্বকাপের পর থেকে একদিনের দলেও সুযোগ পাননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত পারফরমেন্স করেও জাতীয় দলে ব্রাত্য থেকে গেছেন। অজিত আগরকারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি বারবার বলত, তারা আর পেছনে ফিরে তাকাতে চায় না। তাছাড়া মহম্মদ সামির বয়সের দোয়াইও দিত। কিন্তু সামি বারবার প্রমাণ করছেন, বয়সটা তাঁর কাছে কোনও বাধা নয়। এই বয়সেই তিনি সমান দক্ষ।
গত মরশুমে লাল বলের ক্রিকেটে নিজের দক্ষতার প্রমাণও দিয়েছেন। রনজিতে দুরন্ত বোলিং করে বাংলাকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন। এবছরও দারুণ শুরু করেছিলেন। কল্যানীতে দিল্লির বিরুদ্ধে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। তবুও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ভারতীয় দলে জায়গা হয়নি। সামি আশা করেছিলেন, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট দলে হয়তো জায়গা পাবেন। কিন্তু নির্বাচকরা উপেক্ষা করায় তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে পরের রনজি ম্যাচে নিজেকে সরিয়েও নিয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত একরাশ অভিমান নিয়েই লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন সামি।