বেজে গেল এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল উৎসবের দামামা। দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের কালচারাল সেন্টারে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উন্মোচন হল ১৩৫তম ইন্ডিয়ান অয়েল ডুরান্ড কাপের ঐতিহ্যবাহী ট্রফি। ট্রফির আবরণ উন্মোচন করলেন ভারতের মাননীয়া রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মু। আগামী ২৫ জুলাই কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হতে চলা এই মেগা টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক কাউন্টডাউনও শুরু হয়ে গেল।
এবারের ডুরান্ড কাপে মোট ২৪টি দল অংশ নিচ্ছে। ৫টি শহরে মোট ৪৩টি ম্যাচ হবে। ডুরান্ড কাপের ইতিহাসে রাঁচি এবারই প্রথম আয়োজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। তবে সকলের নজর ২৫ জুলাই উদ্বোধনী ম্যাচের দিকে। উদ্বোধনী ম্যাচেই কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হবে রেকর্ড ১৭ বারের চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এবং ১৬ বারের চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান আইএসএল জয়ী ইস্টবেঙ্গল। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ছাড়াও কলকাতা আর এক প্রধান মহমেডান স্পোর্টিংও ডুরান্ড কাপে অংশ নিচ্ছে। ২৩ আগস্ট যুবভারতীতেই প্রতিযোগিতার ফাইনাল।
রাষ্ট্রপতির হাতেই ডুরান্ড কাপের আবরণ উন্মোচন হয়ে থাকে। এটাই রীতি। স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদের সময় থেকেই এই রেওয়াজ চলে আসছে। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ এবং ডুরান্ড কাপের মধ্যে থাকা এক সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারা বজায় রেখে মাননীয়া রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ট্রফির আবরণ উন্মোচন করেন। তিনি বলেন, ‘ফুটবল মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে। ডুরান্ড কাপ বহু তরুণ ফুটবল প্রতিভাকে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি জেনে আনন্দিত যে এবার কিছু নতুন দলও ডুরান্ড কাপে অংশ নিচ্ছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা থেকে আসা একটা দল এবার খেলবে জেনে ভালো লাগছে। আমার বিশ্বাস, এই নতুন দলগুলোর যোগদান এই ঐতিহাসিক প্রতিযোগিতাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলবে।’
অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল এন এস রাজা সুব্রমানি, সেনাপ্রধান জেনারেল
ধীরাজ শেঠ, নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন, এয়ার মার্শাল এস শিবকুমার এবং ইস্টার্ন
আরও পড়ুনঃ রূপকথার প্রত্যাবর্তন, মেসির জাদুতে পুনর্জন্ম, রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা
কমান্ডের জিওসি–ইন–সি লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভি এম ভুবন কৃষ্ণনসহ সশস্ত্র বাহিনীর অন্যান্য শীর্ষ
আধিকারিকরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে,
সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি শ্রী কল্যাণ চৌবে এবং অংশগ্রহণকারী ২৪টি দলের প্রতিনিধিরা।
ট্রফির আবরণ উদ্বোধনের পর শুরু হবে শহর পরিক্রমা। ১১ জুলাই ট্রফি পৌঁছবে শিলং, সেখানে ১৪ জুলাই পর্যন্ত প্রদর্শিত হবে। এরপর ১৫ জুলাই ইম্ফল, ১৬–১৭ জুলাই গুয়াহাটি, ১৮–১৯ জুলাই রাঁচি হয়ে ২১ জুলাই কলকাতায় পৌঁছবে। ১৮৮৮ সালে শুরু হওয়া বিশ্বের তৃতীয় প্রাচীনতম এই টুর্নামেন্টে এবার মোট ২৪টি দল অংশ নেবে। ৫টি শহরে মোট ৪৩টি ম্যাচ হবে।