লড়াইটা ছিল গ্যাব্রিয়েলের সঙ্গে আর্লিং হালান্ডের। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বহুবার আর্সেনালের এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারের কাছে আটকে গেছেন ম্যান সিটির হালান্ড। লড়াইটা ছিল ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সঙ্গে আর্লিং হালান্ডের। এই লড়াইটা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের। সবাইকে ছাপিয়ে নায়ক হালান্ড। তাঁর জোড়া গোলেই ব্রাজিলকে ২–১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে। পেনাল্টি থেকে গোল করেও চোখের জলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হল নেইমার জুনিয়রকে। ১৯৯০ সালের পর আবার শেষ ষোলো থেকেই বিদায় ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। আর ব্রাজিলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল নরওয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিলকে সেই পরিচিত ছন্দে দেখা যায়নি। ব্রাজিল ফুটবল মানেই শিল্প, গতিময় আক্রমণাত্মক ফুটবল। নরওয়ের বিরুদ্ধে শুরু থেকে এদিন কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল। ব্রাজিলের মন্থর, গতিহীন ফুটবল নরওয়েকে বাড়তি সুবিধা করে দিয়েছিল। সেই সুযোগেই হালান্ডের নেতৃত্বে ক্রমশ জাঁকিয়ে বসে নরওয়ে। দ্রুত প্রতিআক্রমণে উঠে এসে সোরলথের কাছ থেকে বল পেয়ে ৪ মিনিটেই ব্রাজিলের জালে বল ঢুকিয়েছিলেন নরওয়ের প্যাট্রিক বার্গ। অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। বারবার আক্রমণ তুলে নিয়ে এসে ব্রাজিল রক্ষণকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করেছে নরওয়ে।
ম্যাচের ১৪ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল ব্রাজিলের সামনে। ১১ মিনিটে বক্সের ভেতর বল পান মাতেউস কুনহা। পেছন থেকে ছুটে এসে স্লাইডিং ট্যাকল করেন ক্রিস্টোফার আয়ের। কুনহা মাটিতে পড়ে যান। পেনাল্টির জোরালো আবেদন করেন। রেফারি কুনহার আবেদনে সাড়া না দিয়ে খেলা চালিয়ে যান। পরে ভিএআর পর্যালোচনা করে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। ব্রুনো গিমেরেসের শট ঝাঁপিয়ে আটকে দেন ওরিয়ান নিল্যান্ড। ৪০ মিনিটে আবার অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন নরওয়ের গোলকিপার। ভিনিসিয়াসের একটা শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় পা দিয়ে সেভ করেন ওরিয়ান নিল্যান্ড। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল নরওয়ের সামনে। মার্টিন ওডেগার্ডের শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকান ব্রাজিল গোলকিপার অ্যালিসন।
প্রথমার্ধের খেলা ততটা উত্তেজক পর্যায়ে না পৌঁছলেও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ ও প্রতিআক্রমণে ম্যাচ জমে উঠে। তখন দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া। আক্রমণে গতি আনতে ম্যাচের ৫৮ মিনিটে মাতেউস কুনহাকে তুলে এনড্রিককে মাঠে নামান কার্লো আনসেলোত্তি। মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে গোলের সুযোগ এসেছিল এনড্রিকের সামনে। ভিনিসিয়াসের পাস যখন পায়ে পান, সামনে শুধু নরওয়ে গোলকিপার। বল অবিশ্বাস্যভাবে বাইরে মারেন এনড্রিক।
৬৮ মিনিটে নেইমারকে নামান কার্লো আনসেলোত্তি। নেইমার মাঠে নামার মিনিট দশেকের মধ্যেই এগিয়ে যায় নরওয়ে। ৭৯ মিনিটে বাঁদিক থেকে সেন্টার করেছিলেন স্কেজেলডারুপ। গ্যাব্রিয়েলকে পরাস্ত করে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান আর্লিং হালান্ড। এরপর ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। সেই সময়ে প্রতিআক্রমণে উঠে এসে আবার গোল তুলে নেয় নরওয়ে। এবারও সেই স্কেজেলডারুপ ও হালান্ডের যুগলবন্দী। স্কেজেলডারুপের পাস থেকে বাঁপায়ের শটে গোল করেন হালান্ড। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যেমন কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসিকে (৭ গোল) ধরে ফেললেন, তেমনই বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চিত করে দেন। ম্যাচের ইনজুরি সময়ে ক্যাসিমিরোকে বক্সের মধ্যে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। পেনাল্টি থেকে করেন নেইমার।
জীবনের শেষ বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে গোল করলেন নেইমার। যদিও দলের কাজে লাগল না। নিউ জার্সির এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই পথচলা শুরু হয়েছিল নেইমার জুনিয়রের। সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই বর্ণময় আন্তর্জাতিক ফুটবলের পরিসমাপ্তি ঘটল। কারণ, তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন এটাই দেশের জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ।