মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত চলতি বিশ্বকাপে অনেক ফুটবলারই আশ্চর্যজনক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন। এমনই একটা গল্প হল অস্ট্রিয়ার অধিনায়ক ডেভিড আলাবার। আলাবার ফুটবল কেরিয়ারে খুব বেশি বৈচিত্র্য নেই। কিন্তু পারিবারিক জীবন বৈচিত্র্যে ভরা। অস্ট্রিয়ার এই তারকার পরিবার ৩টি ভিন্ন মহাদেশের এবং পরিবারে ৩টি ভিন্ন ধর্মের মানুষ রয়েছেন।
আলাবা এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে ইউরোপ থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃত শুধু এক বা দুটি নয়, ৮টি ভিন্ন দেশের যোগসূত্র রয়েছে। প্রথমে আলাবা সম্পর্কেই বলা যাক। তিনি জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করলেও অস্ট্রিয়ায় বেড়ে উঠেছেন। ডেভিড আলাবার বাবা জর্জ আলাবা ইয়োরুবা বংশোদ্ভূত একজন নাইজেরীয়। মা জিনা এশিয়ার দেশ ফিলিপিন্সের। জর্জ আলাবা একজন সঙ্গীতশিল্পী ও ডিজে। এই পেশায় আসার আগে তিনি নাইজেরিয়া থেকে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় পড়াশোনা করতে যান। অন্যদিকে, জিনা ফিলিপিন্স থেকে অভিবাসী হয়ে অস্ট্রিয়ার রাজধানীতে নার্স হিসেবে কাজ করতেন। সেখানেই জর্জের সঙ্গে আলাপ ও বিয়ে।
আলাবা ভিয়েনার ফিলিপিনো সম্প্রদায়ের মাঝে বেড়ে উঠেছেন এবং তাঁর মায়ের সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত ছিলেন। আলাবার বোন রোজ মে আলাবা বাবার মতো সঙ্গীত জগতকেই বেছে নিয়েছেন। তিনি একজন গায়িকা হিসেবে নিজের কর্মজীবন গড়ে তুলেছেন। এখানেই শেষ নয়, আলাবার স্ত্রী ডেনমার্কের অধিবাসী এবং তাঁর দাদা কঙ্গোর বংশোদ্ভূত। মজার ব্যাপার হল, আলাবা গত কয়েক বছর ধরে স্পেনে বসবাস করছেন। আর তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যরা ইংল্যান্ডে বসবাস করেন।
বৈচিত্র্য শুধু ভৌগোলিক নয়, ধর্মেরও। ডেভিড আলাবার বাবা মুসলিম এবং মা বৌদ্ধ। আলাবা আবার নিজে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহন করেছেন। ডেভিড আলাবার স্ত্রী শালিমার হেপনার। তিনি জার্মানির সুপরিচিত সেলিব্রিটি শেফ ফ্রাঙ্ক হেপনারের কন্যা। শালিমার জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার। লাইফস্টাইল ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আগে তিনি বিভিন্ন বিপণন ও জনসংযোগ পদে কাজ করেছেন।
ডেভিড আলাবার ব্যক্তিগত জীবন বৈচিত্র্যে ভরা হলেও তাঁর পেশাদার ফুটবল কেরিয়ার বেশ ধারাবাহিক। তিনি টানা বিগত পাঁচ বছর ধরে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়েল মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন। তার আগে জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে টানা ১২ বছর কাটিয়েছিলেন। ২০২১ সালে রিয়েলে যোগ দেওয়ার আগে আলাবা বায়ার্ন মিউনিখে একাধিক বুন্দেশলিগা শিরোপা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে খ্যাতি অর্জন করেন। স্পেনে তিনি আরও শিরোপা জিতে নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারদের একজন হিসেবে নিজের স্থান পাকা করে নেন।
তবে আলাবার ফুটবলজীবন বাধাহীন ছিল না। হাঁটুর গুরুতর চোটের কারণে তাঁকে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল। বিশ্বকাপের আগে ফিট হয়ে অস্ট্রিয়ার নেতৃত্বে তাঁর প্রত্যাবর্তন আরও বেশি উল্লেখযোগ্য। ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ফুটবল জীবনে অস্ট্রিয়ার হয়ে ১১৫টি ম্যাচ খেলেছেন ডেভিড আলাবা। তাঁর জন্যই নাইজেরিয়ার ইয়োরুবা পদবি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবল মঞ্চে জায়গা করে নিল।