বিশ্বকাপের শুরু থেকে গোল করেই চলেছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ডরা। অথচ দুর্বল কঙ্গোর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে গোলহীন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। অনেকেই সমালোচনায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি ফুটবলারকে। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে যাবতীয় সমালোচনার জবাব দিয়ে গেলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। বলতে গেলে তাঁর দুরন্ত ফুটবলের সামনে উড়ে গেল উজবেকিস্তান। ৫–০ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের নক আউটে পর্তুগাল। জোড়া গোল রেনাল্ডোর। ৬টি বিশ্বকাপেই গোল করার অনন্য নজির গড়লেন এই পর্তুগিজ তারকা।
ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে একেবারেই ছন্দে ছিলেন না রোনাল্ডো। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে সেই চেনা মেজাজে। আর তিনি ছন্দে ফিরতেই উড়ে গেল উজবেকিস্তান। ম্যাচের শুরুতেই রোনাল্ডোর মরিয়া ভাব বুঝিয়ে দিয়েছিল, জবাব দেওয়ার জন্যই তিনি মাঠে নেমেছেন। ৩ মিনিটে নুনো মেন্ডেজের সেন্টারে যেভাবে শরীর ছুঁড়েছিলেন, কে বলবে বয়স ৪১ বছর! পা ছোঁয়াতে পারলেই গোল পেয়ে যেতেন। তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে। তিন মিনিট পরেই গোল। ডানদিক থেকে সেন্টার করেছিলেন জোয়াও ক্যানসেলো। বল মাটিতে পড়ার আগেই দুরন্ত ভলি। বল জালে। এই নিয়ে ৬টি বিশ্বকাপেই গোল করার নজির গড়েন। দেশের হয়ে বিশ্বকাপে গোল করার নিরিখে স্পর্শ করেন ইউসেবিওর (৯) রেকর্ড।
এই সময় উজবেকিস্তানকে একেবারে ছিঁড়ে খাচ্ছিলেন রোনাল্ডো, নুনো মেন্ডেজ, ব্রুনো ফার্নান্ডেজরা। ১৭ মিনিটের মধ্যেই ২–০। ফ্রিকিক থেকে দুরন্ত শটে গোল নুনো মেন্ডেজের। রোনাল্ডো নাকি স্বার্থপর। নুনো মেন্ডেজকে যেভাবে শট মারার জন্য এগিয়ে দিলেন, দেখে কে বলবে তিনি স্বার্থপর? খেলার গতির বিরুদ্ধে ম্যাচের ৩১ মিনিটে পর্তুগালের জালে বল পাঠিয়েছিলেন উজবেকিস্তানের আজিজ গানিয়েভ। ফাউলের জন্য সেই গোল বাতিল হয়।
৩৯ মিনিটে আবার জ্বলে ওঠেন রোনাল্ডো। ব্রুনো ফার্নান্দেজের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে দেন দেশের হয়ে বিশ্বকাপের ইউসেবিওর (৯) সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। রোনাল্ডো পৌঁছে যান ১০–এ। বিরতির আগেই হ্যাটট্রিক পেয়ে যেতেন রোনাল্ডো। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে উজবেকিস্তান গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করেছিলেন রোনাল্ডো। গোললাইন থেকে বাঁচান আবদুকদির খুসানভ।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভয়ঙ্কর রোনাল্ডো। ৫৮ মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ এসে গিয়েছিল। ব্রুনো ফার্নান্ডেজের ফ্রিকিক ফাঁকায় পেয়ে গিয়েছিলেন রোনাল্ডো। তাঁর শট ব্লক করে দেন উজবেক গোলকিপার নেমাটভ। পরের মিনিটেই ৪–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। ব্রুনো ফার্নান্ডেজের কর্নার বক্সে জটলার মধ্যে উজবেকিস্তান এক ডিফেন্ডার ও গোলকিপারের গায়ে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়।
৭৩ মিনিটে আবার সুযোগ রোনাল্ডো সামনে। নুনো মেন্ডেজের পাস ৬ গজ বক্সে পেয়েও বাইরে মারেন। পরের মিনিটেই তাঁর বাঁপায়ের শট দারুণভাবে বাঁচান নেমাটভ। ৮৭ মিনিটে ৫–০ করেন ভিতিনহার পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা লিয়াও। ডানদিক থেকে বক্সের মধ্যে সেন্টার করেছিলেন নেলসন সেমেদো। দুরন্ত শটে গোল করেন লিয়াও। উজবেকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে নক আউট পর্ব নিশ্চিত করল পর্তুগাল।