আগের দিনই জীবনের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে যা রেকর্ড। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই মেসির রেকর্ড স্পর্শ করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। দুজনেরই জীবনের শেষ বিশ্বকাপ। মাইলস্টোনের ম্যাচে মেসি যেভাবে জ্বলে উঠেছিলেন, তার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারলেন না রোনাল্ডো। ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে গোটা ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল ধরলেন। রোনাল্ডোর ব্যর্থতার মাশুল দিতে হল পর্তুগালকে। দুর্বল কঙ্গোর সঙ্গে ড্র। ম্যাচের ফল ১–১। বিশ্বকাপে কঙ্গোর হয়ে প্রথম গোল করে ইতিহাসে ইওয়ান উইসা।
৫২ বছর পর আবার বিশ্বকাপের আসরে ডিআর কঙ্গো। ১৯৭৪ সালে শেষবার বিশ্বকাপ খেলা কঙ্গো ৩ ম্যাচে হজম করেছিল ১৪ গোল। একটা গোলও করতে পারেনি। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই পর্তুগালকে আটকে দিয়ে চমক কঙ্গোর। চলতি বিশ্বকাপে ছোট দলগুলি একের পর এক যেভাবে চমক দিয়ে চলেছে, ডির কঙ্গো তাদের মধ্যে নতুন সংযোজন। বিশ্বকাপে ইতিহাসে নিজেদের শুধু প্রথম গোলই নয়, প্রথম পয়েন্টও তুলে নিল কঙ্গো।
কঙ্গোর এই পয়েন্ট পাওয়ার পেছনে তাদের ফুটবলারদের যেমন কৃতিত্ব রয়েছে, তেমনই পর্তুগাল ফুটবলারদের ব্যর্থতাও দায়ী। সবচেয়ে করুণ অবস্থা দলের সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। গোটা ম্যাচে তাঁকে রীতিমতো বোতলবন্দী করে রেখেছিলেন কঙ্গোর ডিফেন্ডাররা। মাত্র ২৫ বার বল ধরার সুযোগ পেয়েছিলেন। আর প্রথমার্ধে তো একবারের বেশি কঙ্গোর বক্সে ঢুকতে পারেননি। অথচ এই ম্যাচ হওয়া উচিত ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর।
ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য দাপট ছিল পর্তুগালের। ৬ মিনিটের মধ্যে এগিয়ে যায়। বাঁদিক থেকে পেদ্রো নেতো সেন্টারে নিখুঁত হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন জোয়াও নেভেস। এরপর মনে হচ্ছিল গোলের বন্যা বইয়ে দেবে পর্তুগাল। কিন্তু প্রথমার্ধের বাকি সময় চূড়ান্ত ব্যর্থ রোনাল্ডো, নেভেস, ভিতিনহারা। সেই সুযোগেই সমতা ফেরায় কঙ্গো। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে বাঁদিক থেকে ভেসে আসা সেন্টারে হেডে গোল করে ইতিহাসে ঢুকে যান কঙ্গোর ইওয়ান উইসা। তাঁর এই গোলটাই বিশ্বকাপের ইতিহাসে কঙ্গোর প্রথম গোল।
গোলের জন্য বিরতির পর গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন নেভেসরা। আক্রমণে ধার বাড়লেও ফিনিশিংয়ের অভাব ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে কঙ্গোর গোল লক্ষ্য করে গোটা ছয়েক শট নিলেও একটাতেও লক্ষ্যভেদ হয়নি। অ্যারন ওয়ান–বিসাকারা রক্ষণ এতটাই সংগঠিত করে রেখেছিলেন, বক্সে ঢুকতেই পারেননি রোনাল্ডোরা। গোটা ম্যাচে রোনাল্ডোর পারফরমেন্স? মাত্র ২৫ বার বলে টাচ। বাধ্য হয়ে ৮০ মিনিটের মাথায় তাঁকে তুলে নেন কোট রবার্তো মার্টিনেজ।