দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বাংলাদেশে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও মিত্র জোট। ভোটগণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতিমধ্যেই জাতীয় সংসদের দুই–তৃতীয়াংশ আসন নিশ্চিত করেছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ৮ জোটের বিএনপি। সময় যত গড়াচ্ছে, আসনসংখ্যা বেড়েই চলেছে বিএনপি–র।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন হয়। শেরপুর–৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রয়েছে। সরকার গঠনের যে কোনও জোটে ১৫১টি আসন পেতে হবে। ইতিমধ্যেই ৮ দলীয় বিএনপি জোট সেই মাইলস্টোনে পৌঁছে গেছে। বিএনপি একক ভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। সর্বশেষ বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত খবর অনুয়ায়ী ঘোষিত ২৪২টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট পেয়েছে ১৭১টি, এরমধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ১৬৯টি আসন। জামায়াতে ইসলামী জোটের ঝুলিতে ৬৪টি আসন। ইসলামী আন্দোলন পেয়েছে ১টি, স্বতন্ত্র ও অন্যান্যরা পেয়েছে ৬টি। জাতীয় পার্টি কোনও আসন পায়নি।
বিএনপি এবারের নির্বাচনে ৮টি মিত্র দলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে লড়াই করেছে। দলগুলি হল জামায়তে উলামা–ই–ইসলাম বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এবং ইসলামী ঐক্য জোট। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, আমার বাংলাদেশ পাটি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ চলে। এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ভোটগ্রহনের পর বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকেই থেকেই তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণ শুরু হয়েছে।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬, দুটি আসনেই জয়লাভ করেছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান ইতিমধ্যেই বিপুল আসনে দলকে জেতানোর জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি দলীয় সমর্থকদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, কোথাও বিজয় মিছিল করা যাবে না। আজ নির্বাচনের সম্পূর্ণ ফলাফল ঘোষণার পর খালেদা জিয়ার স্মৃতিতে বিএনপি–র তরফে দেশের বিভিন্ন মসজিদে প্রার্থনা করা হবে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর দেশব্যাপী বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদেরও নিজ নিজ উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, ইতিবাচক ও শান্তিপূর্ণ ভোটের কথা বললেও ভোটগণনার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। আজ সকালে দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হলেও নির্বাচনী ফল সংক্রান্ত পদ্ধতি নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। বিভিন্ন আসনে ১১টি দলের জোটপ্রার্থীরা স্বল্প ব্যবধানে এবং রহস্যজনক ভাবে হেরে গিয়েছে।’ বেসরকারি ফল ঘোষণার ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে জামায়তে ইসলামী।