ইজরায়েলের নেসেটে মোট ১২০টি আসন। সরকার গঠন করতে কমপক্ষে ৬১ আসন প্রয়োজন। ইজরায়েলের নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হচ্ছে। ৮৯ শতাংশেরও বেশি ভোট গণনা শেষ। নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টির বেশি আসন পাবে না বলে মনে হচ্ছে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের দলের ভাগ্যে জুটতে পারে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলির জোট ১৯টি আসন পেতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের নেসেটের ভাগ্য আরব দলগুলির হাতে। ‘কিং মেকার’ হতে চলেছেন দুই মুসলিম নেতা ইউসুফ জাবারিন এবং মনসুর আব্বাস।
ইজরায়েলি নির্বাচনের ভোট গননার গতিপ্রকৃতি দুটি বিষয় স্পষ্ট করেছে। প্রথমত, ইজরায়েলের নেসেটে কোনও জোটেরই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। দ্বিতীয়ত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এককভাবে সরকার গঠন করতে অক্ষম। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে চরম সমস্যায় পড়বেন নেতানিয়াহু। কারণ, এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতার চাবি থাকবে দুই মুসলিম নেতার হাতে, যাঁরা তেল আবিবের রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর কট্টর বিরোধী হিসেবে পরিচিত।
এই দুই মুসলিম নেতা হলেন জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসুফ জাবারিন ও র্যাম জোটের নেতা মনসুর আব্বাস। জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসুফ জাবারিনের জোট ১২টি আসন জিতবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাবারিন ২০১৬ সালে প্রথম নেসেটের সদস্য হন এবং ২০২১ সাল পর্যন্ত সেই পদে ছিলেন। এবার তিনি সমস্ত আরব দলকে একত্রিত করে একটা জোট গঠন করেছেন। ইজরায়েলি রাজনীতিতে জাবারিনকে নেতানিয়াহুর একজন কট্টর বিরোধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ফলাফল ঘোষণার পর অনেক কিছুই জাবারিনের ওপর নির্ভর করবে। জাবারিন যে পক্ষকেই সমর্থন করুন না কেন, তারা ইজরায়েলে সহজেই সরকার গঠন করতে পারবে। কারণ নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোটের জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। অন্যদিকে, র্যাম জোটের নেতা মনসুর আব্বাস ৪টি আসনে জয়ী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মনসুর আব্বাস একজন কট্টরপন্থী মুসলিম নেতা। যদিও আব্বাসের সমর্থনের সরাসরি কোনও প্রভাব নাও থাকতে পারে। তবে তিনি যদি ইউসুফের পক্ষ নেন, তাহলে এর প্রভাব পড়তে পারে।
হোয়াইট হাউস নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের মধ্যে একটা জোট গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। হোয়াইট হাউস চায় যে এই দুই নেতা একসঙ্গে কাজ করুক, যার ফলে সাম্প্রতিক ইরান-বিবাদে ইজরায়েল সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। এই ব্যাপারে ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, আইজেনকোট একটা জোট গঠন করে সরকার পরিচালনা করতে চাইছেন।
এদিকে, নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি আরব দলগুলির বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপি ও চুরির অভিযোগ করেছে। দলটির দাবি, আরব দলগুলো বেশি ভোট পাওয়ার জন্য অন্যায্য পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন সরকার গঠনে আরব দলগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বুধবার লিকুদ পার্টি এক বিবৃতি জারি করে বলেছে, ‘আরব দলগুলি ভোট চুরি করেছে। ভোটারদের প্রভাবিত করতে দুর্নীতি, হুমকি, সহিংসতা, মিথ্যাচার এবং নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে।’ দলটি জানিয়েছে, তারা কর্তৃপক্ষের কাছে সাক্ষীদের জবানবন্দি ও প্রমাণ জমা দিচ্ছে। তাদের অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে নগদ টাকায় ভরা হাজার হাজার খাম, র্যাম পার্টির ব্যালট এবং ভোটকেন্দ্রের কর্মীদের প্রতি হুমকি।