দুই কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ কি আসন্ন? উত্তর কোরিয়া যেভাবে একের পর এক অস্ত্র পরীক্ষা করে চলেছে, নতুন করে দুই কোরিয়ার মধ্যে সংঘাতের ইঙ্গিতই বহন করছে। আর এই ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে পরোক্ষ মদত আছে, সেকথা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। কারণ উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপেক্ষা। কিম জং বারবার ট্রাম্পের কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছেন।
কিছুদিন আগেই দক্ষিণ কোরিয়া হাইপারসনিক ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল। তার জবাবে সোমবার পূর্ব সাগরের দিকে উত্তর কোরিয়া বেশ কয়েকটা ব্যালেস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এবার সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া। দেশটি তার সামরিক সক্ষমতা ক্রমাগত বাড়িয়েই চলেছে। আর সেই কারণেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার আবেদনে সাড়া দিচ্ছেন না কিম জং।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার দেশের সামরিক বাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় সাগরে দুই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। প্রতিবেদনে এই অস্ত্রগুলোকে কৌশলগত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার অর্থ হতে পারে, এগুলো পারমাণবিক ওয়ারহেড দিয়ে সজ্জিত। তবে এই ক্ষেপনাস্ত্রগুলি আসল সাবমেরিন থেকে নাকি কোনও জলের নীচে ডুবে থাকা পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অবশ্য জানিয়েছে, পরীক্ষাগুলির উদ্দেশ্য দেশের ডুবো যুদ্ধ ব্যবস্থার প্রস্তুতি যাচাই করা, কৌশলগত অভিযান পরিচালনায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করা। এই উৎক্ষেপণগুলি দক্ষিণ কোরিয়ার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষাসহ ধারাবাহিক অস্ত্র প্রদর্শনের পর করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে যে, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম অস্ত্রের ভাণ্ডারকে শক্তিশালী করাই ছিল এই পরীক্ষাগুলির লক্ষ্য।
সাম্প্রতিককালে উত্তর কোরিয়া সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়া চালিয়েছে এবং একটা সামরিক বাহিনীতে নতুন যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত করেছে। একই সময়ে, নেতা কিম জং উন তাঁর পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি প্রদর্শন করে চলেছেন এবং পুনরায় আলোচনা শুরু করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। গত কয়েক বছর ধরে কিম দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমস্ত কথাবর্তা ও সহযোগিতা বন্ধ রেখেছেন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার মধ্যে তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে তাঁর ঘোর শত্রু হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।