সিরিয়ার হোমস শহরে শুক্রবার এক মসজিদে বিস্ফোরণে কমপক্ষে আটজন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে যে, শুক্রবার জুম্মা নামাজে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের লক্ষ্য করে হোমসের ইমাম আলী ইবনে আবি তালেব মসজিদে বিস্ফোরক ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত ভিডিওতে মসজিদের ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং মেঝে জুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ শুরু করেছে নিরাপত্তা দলগুলি। মসজিদের চারপাশে কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে রাখা হয়েছে। কারা এই হামলা চালিয়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছে হোমস প্রদেশের মিডিয়া অফিস। তবে হামলার পরপরই টেলিগ্রামের মাধ্যমে আনসার আল–সুন্নাহ নামে একটা গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেছে। কিন্তু সিরিয়ার কর্তারা তাদের দাবির বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
বিস্ফোরণ হাত থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা শুক্রবারের নামাজের জন্য জড়ো হওয়া মসজিদে বিস্ফোরণের সময় বিশৃঙ্খলার দৃশ্য বর্ণনা করেছেন। বাশার আল–ইসা নামে এক ব্যাক্তি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানাকে বলেন, ‘প্রথম সেজদা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটা প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। সবাই মেঝেতে পড়ে ছিল। কারও কারও মাথা উড়ে গিয়েছিল। ডানদিকের লোকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অনেকেই আহত হয়ে পালিয়ে যান।’
আরও পড়ুনঃ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি, অবসান হল দীর্ঘদিনের সীমান্ত যুদ্ধ
সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী হামজা আল–মুস্তফা এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটা সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে আসাদ সরকারের অবশিষ্টাংশ, আইসিস উপাদান এবং এজেন্টরা একটা লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছে। নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করে নতুন রাষ্ট্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করা, নাগরিক শান্তি ব্যাহত করাই সন্ত্রাসীদের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ জর্ডান, লেবানন, সৌদি আরব এবং কাতারও হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
এক বিবৃতিতে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে যে, তারা সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেওয়ার এবং ঐক্যবদ্ধ ও বহুত্ববাদী সিরিয়ার মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টাকে দুর্বল করার লক্ষ্যে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। লেবানন ও সিরিয়ায় নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত গ্রেগরি গ্যালিগান বলেছেন যে, ‘কানাডা ক্ষতিগ্রস্থদের এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে এবং সহিংসতা ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই করা সমস্ত সিরিয়ানদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।’
গত বছর দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে সিরিয়া নানাবিধ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তারপর থেকে, দেশটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধের পর পুনর্গঠন এবং পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করার সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জর্জরিত। সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি আহমেদ আল–শারা, যিনি একজন প্রাক্তন আল–কায়েদা সদস্য, সিরিয়ার সমস্ত বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়কে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু কিছু গোষ্ঠীর কাছ থেকে বাধা পাচ্ছেন। সোমবার সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে সিরিয়ার সেনাবাহিনী এবং কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যখন সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে এসডিএফকে একীভূত করার পরিকল্পনা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা চলছিল।