ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ নিরাপত্তার দায়িত্ব দেশের কর্মীদের হাতে অর্পণ করেছেন।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণ ও বন্দী করে ক্ষান্ত হননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কিউবার সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত চাপের মুখে ভেনেজুয়েলায় নিযুক্ত কিউবার নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং চিকিৎসকরা দেশে ফিরে যাচ্ছেন। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব দেশের নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে অর্পণ করেছেন। আগে নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর আগে হুগো শ্যাভেজ নিজেদের সুরক্ষার জন্য কিউবার বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নির্ভর করেছিলেন।
কিউবা সরকার দাবি করেছে, ৩ জানুয়ারি নিকোলাস মাদুরোকে বন্দী করার সময় মার্কিন সামরিক অভিযানে ৩২ জন কিউবান সৈন্য নিহত হয়েছিল। এই সৈন্য এবং মাদুরোর দেহরক্ষীরা ২০০০ সালের শেষের দিকে ভেনেজুয়েলা এবং কিউবার মধ্যে একটা প্রধান নিরাপত্তা চুক্তির অংশ ছিল। এই চুক্তির অধীনে ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনী এবং এর গোয়েন্দা সংস্থা, ডিজিসিআইএম (ডিরেক্টিসিওন জেনারেল ডি কনট্রেন্টেলিজেনসিয়া মিলিটার)–এর মধ্যে কিউবান গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হয়েছিল। ডিজিসিআইএমের কাজ ছিল দেশের অভ্যন্তরে ভিন্নমত দমন করা।
সূত্রমতে, ডিজিসিআইএম-এ কর্মরত কিছু কিউবান উপদেষ্টাকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে বেশ কয়েকজন কিউবান ডাক্তার এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তা ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় ফিরে এসেছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে যে, মার্কিন চাপের কারণে রদ্রিগেজ কিউবান কর্মীদের অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে এটা স্পষ্ট নয় যে, তাদের ভেনেজুয়েলা পাঠিয়েছে নাকি কিউবা নিজেই প্রত্যাহার করেছে।
মাদুরোকে অপসারণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, তিনি ভেনেজুয়েলা এবং কিউবার মধ্যে নিরাপত্তা সম্পর্ক শেষ করতে চান। তিনি অভিযোগ করেন, কিউবা বছরের পর বছর ধরে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল এবং অর্থ পেয়েছে এবং বিনিময়ে নিরাপত্তা পরিষেবা প্রদান করেছে। ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেলের চালান নিষিদ্ধ করে, যার ফলে কিউবার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পায়। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন যে, আমেরিকা ভেনেজুয়েলার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং বিশ্বাস করে যে রদ্রিগেজ তার সর্বোত্তম স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেবেন।
কিউবা সরকার জানিয়েছে যে, তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, কিন্তু তেল অবরোধের বিরোধিতা করে। উভয় দেশই প্রকাশ্যে জানিয়েছে যে তাদের সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। ৮ জানুয়ারি রদ্রিগেজ, কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজের সঙ্গে মার্কিন হামলায় নিহতদের স্মরণসভায় যোগ দিয়েছিলেন। পরে তিনি কিউবার রাষ্ট্রপতি মিগুয়েল দিয়াজ–ক্যানেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।