দু’দিনের সফরে আজ ভারতে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিশেষ বিমানে সন্ধেয় তিনি দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। আজ রাতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া ব্যক্তিগত নৈশভোজে হাজির হবেন। ২৩ তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতেই ভ্লাদিমির পুতিনের এই ভারত সফর।
পুতিনের দু’দিনের ভারত সফরে ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। আজ সন্ধেয় দিল্লি পৌঁছনোর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া ব্যক্তিগত নৈশভোজে যোগ দেবেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদীর মস্কো সফরের সময় ভ্লাদিমির পুতিনও মোদীকে ব্যক্তিগত নৈশভোজে আপ্যায়িত করেছিলেন। মোদীর নৈশভোজ আয়োজন তারই প্রতিদান। নৈশভোজটি অনানুষ্ঠানিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই দেশের শীর্ষ সম্মেলনের আগে এই নৈশভোজের আসরেই বৈঠকের আসল সুর নির্ধারণ হয়ে যাবে।
শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচী শুরু করবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সকালেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে। তারপর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচী শুরু করবেন পুতিন। প্রথমেই তিনি রাজঘাটে যাবেন মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে। প্রত্যেক রাষ্ট্রপ্রধানদের সফরের জন্য এটা একটা আদর্শ অনুষ্ঠান হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর পর রাজধানীর হায়দরাবাদ হাউসে ২৩তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন পুতিন। শীর্ষ সম্মেলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর প্রতিনিধি দলের জন্য একটা কর্মদিবসের আয়োজন করবেন। ইউক্রেনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কিছু প্ল্যাটফর্মে বিলম্বের কারণে বেশকিছু সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই সামরিক সরঞ্জামগুলি দ্রুত সরবরাহের জন্য শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়াকে ভারত চাপ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ যৌথ অভিযানে কর্ণাটক থেকে উদ্ধার ২৪ জন নাবালক, দায়িত্ব নিল মেঘালয় রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন
বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার মূল বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত এস–৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ভারত ২০১৮ সালে পাঁচটি এস–৪০০ ইউনিটের জন্য ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তিনটি স্কোয়াড্রন সরবরাহ করা হয়েছে এবং আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে আরও দুটি স্কোয়াড্রন সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অপারেশন সিন্দুরের সময় সিস্টেমগুলি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, আলোচনায় পঞ্চম প্রজন্মের এসইউ–৫৭ যুদ্ধবিমানের প্রতি ভারতের আগ্রহ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ভারত বর্তমানে পরবর্তী প্রজন্মের প্ল্যাটফর্মগুলি মূল্যায়ন করছে, যার মধ্যে রাফায়েল, এফ–২১, এফ/এ–১৮ এবং ইউরোফাইটার টাইফুনের মতো যুদ্ধাস্ত্র।
এছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব আলোচনায় স্থান পাবে। পেসকভ বলেন, ভারতের তেল ক্রয় কিছু সময়ের জন্য হ্রাস পেতে পারে, যদিও রাশিয়া সরবরাহ বজায় রাখার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রেসিডেন্ট পুতিনের বৈঠকের পাশাপাশি, উভয় দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, রাজনাথ সিং এবং আন্দ্রে বেলোসভ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে আলোচনায় বসবেন।
পুতিনের এই ভারত সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ভারত–মার্কিন সম্পর্ক ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে। ওয়াশিংটন সম্প্রতি বিভিন্ন ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে এবং রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের জন্য আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। পুতিন ইউক্রেনের সংঘাতের ব্যাপারে সর্বশেষ মার্কিন কূটনৈতিক উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অবহিত করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত মস্কোর সমালোচনা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি নিজেকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরে। ভারতের মতে আলোচনা ও কূটনীতিই সমাধানের একমাত্র পথ।