পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না পাকিস্তানের প্রাক্তনমন্ত্রী ইমরান খানকে। তিনি জীবিত রয়েছেন কিনা, তার প্রমাণও দিতে চাইছে না পাকিস্তান সরকার। এই পরিস্থিতিতে আদিয়ালা জেলের সামনে বিশাল বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরিক–ই–ইনসাফ পার্টি। আর ব্যাপক বিদ্রোহের আশঙ্কায় সতর্ক পাক সরকার। ইতিমধ্যেই রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। জনসমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনার ডঃ হাসান ওয়াকার চিমার স্বাক্ষরিত এক নির্দেশে বলা হয়েছে যে, ফৌজদারি কার্যবিধি (পাঞ্জাব সংশোধন) আইন, ২০২৪–এর অধীনে রাওয়ালপিন্ডিতে তিন দিনের জন্য ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন কার্যকলাপ নিষিদ্ধ থাকবে। নিষিদ্ধ কার্যকলাপের মধ্যে রয়েছে, এক, সকল ধরণের সমাবেশ, অবস্থান, মিছিল, বিক্ষোভ, জলসা, ধর্না, প্রতিবাদ এবং পাঁচ বা তার বেশি লোকের সমাগম। দুই, অস্ত্র, লাঠি, গুলেল (স্লিং শট), বল বিয়ারিং, পেট্রোল বোমা, ইম্প্রোভাইজড বিস্ফোরক বা অন্য কোনও সরঞ্জাম বহন, যা সহিংসতার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তিন, অস্ত্র প্রদর্শন এবং আপত্তিকর বা ঘৃণামূলক বক্তৃতা। চার, মানুষের সমাবেশ বা যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ কর্তৃক আরোপিত যে কোনও বিধিনিষেধ অপসারণের চেষ্টা করা। পাঁচ, পিলিয়ন অশ্বারোহণ, লাউডস্পিকারের ব্যবহার।
নির্দেশে বলা হয়েছে, ‘রাওয়ালপিন্ডি জেলার সীমানার মধ্যে হুমকি রয়েছ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং শান্তি নিশ্চিত করার জন্য এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। জেলা গোয়েন্দা কমিটি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা রিপোর্টে জানিয়েছে যে, কিছু গোষ্ঠী বড় সমাবেশ, বিক্ষোভ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী সমাবেশের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে সক্রিয়ভাবে একত্রিত হচ্ছে। তাই সতর্কতা ব্যবস্থা গ্রহন করেছে প্রশাসন।’
এদিকে আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও পরিবারের কাউকে দেখা করতে না দেওয়ায় বাবার চরম ক্ষতি হয়ে গিয়েছে বলে আশঙ্কা করেছেন ইমরান খানের ছেলে কাসিম খান। তিনি বাবার জীবনের জীবনের প্রমাণ চেয়েছেন। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাসিম খান বলেছেন, ‘বাবা আদৌও বেঁচে আছেন কিনা, কিংবা নিরাপদে আছেন কিনা, কিছুই জানি না। তা জানতে না দেওয়াটা এক ধরণের মানসিক নির্যাতন। বাবার অবস্থা সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। আমার মনে হয় বাবার কোনও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। যা সরকার গোপন করছে।’ এর আগে কাসিম খান অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁর বাবাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন পরিবেশে ‘নির্জন মৃত্যু সেলে’ রাখা হয়েছে।