পদক সংখ্যা আগের তুলনায় বাড়বে কিনা সময়ই বলবে। তবে ২০২৬ এশিয়ান গেমসের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ভারত। বিগত তিন বছর ধরে অ্যাথলিটদের প্রস্তুতির জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাপানে শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের জন্য ভারতীয় ক্রীড়াবিদ প্রস্তুতিতে গত তিন বছরে প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম সহায়তা, কোচ ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগ বাবদ ৮০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করা হয়েছে।
এবারের এশিয়ান গেমসে ভারতের ৫১০ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নেবেন। এদের মধ্যে ৩১০ জনের কাছে প্রথম এশিয়ান গেমস। এই অ্যাথলিটরা তিন বছর ধরে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উচ্চাভিলাষী ‘টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম’ (টপস)–এ ছিলেন। এই অ্যাথলিটদের কাছ থেকে ভাল পারফরমেন্স পেতে সরকার কোটি কোটি টাকা অর্থ ব্যয় করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির জন্য বার্ষিক প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণ ক্যালেন্ডারের অধীনে ৭০২.৮৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
এছাড়া, টপস তহবিল থেকে প্রস্তুতির জন্য ৯৭.৮৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ, ২৫১.৪ কোটি টাকা খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য ব্যয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঘরোয়া প্রশিক্ষণে ১১৮.৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। বিদেশে প্রশিক্ষণে ব্যয় হয়েছে ৩৯.৮ কোটি টাকা। সরকার বিদেশে প্রশিক্ষণের চেয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা অর্জনে ছয় গুণেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। সরঞ্জাম বাবদ ৮৯.২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ শেষ হল অনূর্ধ্ব ১৩ জাতীয় র্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতা, দক্ষিণ ভারতের শাটলারদের জয়জয়কার
এই ব্যয়ের মাধ্যমে অ্যাথলিটদের জন্য একটা সহায়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও প্রতিফলিত হয়েছে। ৫০ জন বিদেশি বিশেষজ্ঞর জন্য ৮৬.৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আরও ১১৭.৯ কোটি টাকাকে অন্যান্য খরচ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের পারিশ্রমিক, ভারতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং কোচদের উন্নত প্রশিক্ষণ। একত্রে, এই দুটি খাতে ২০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করা হয়েছে। এশিয়ান গেমসে ভারত ৩৬টি খেলায় ৫০১ জনের দল পাঠাচ্ছে। যার মধ্যে ২৬৭ জন পুরুষ এবং ২৩৪ জন মহিলা খেলোয়াড় রয়েছেন। সঙ্গে ২৬৫ জন সাপোর্ট স্টাফ।
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখেও এই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। এই খরচের উদ্দেশ্য শুধু ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসে সর্বোচ্চ সংখ্যক পদক জয় নয়। কঠোর ও ন্যায্য বাছাই প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং এমন একদল ক্রীড়াবিদ তৈরি করা হচ্ছে, যারা বছরের পর বছর ধরে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে, যা ২০২৮ অলিম্পিকের লক্ষ্য পূরণ করবে।