মহিলা চিকিৎসকের হিজাব খুলে দিয়ে বিতর্কে জড়ালেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। পাটনায় এক সরকারি অনুষ্ঠানে ওই মহিলা চিকিৎসকের মুখ থেকে হিজাব খুলে ফেলেন তিনি। এই ঘটনায় নীতীশ কুমারের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আরও একবার প্রশ্ন উঠে গেল। তাঁর এই আচরণে সরব বিরোধীরা। কংগ্রেস বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণকে ‘নির্লজ্জ’ এবং ‘ঘৃণ্য’ বলে অভিহিত করেছে।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে ১২৮৪ জন নবনিযুক্ত আয়ুষ চিকিৎসককে নিয়োগপত্র বিতরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল রাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবা জোরদার করা এবং ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতি জনসাধারণের জন্য সহজলভ্য করা। এই অনুষ্ঠানে ৭৪ বছর বয়সী বিহারের মুখ্যমন্ত্রী মহিলা আয়ুষ (আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা, ইউনানি, সিদ্ধা এবং হোমিওপ্যাথি) চিকিৎসক নুসরত পরভীনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার সময় তাঁকে হিজাব খুলে ফেলার জন্য ইঙ্গিত করেন। নুসরত পরভীন কোনও প্রতিক্রিয়া না দেখাতে হঠাৎই তাঁর মুখ থেকে হিজাব টেনে খুলে ফেলেন নীতীশ কুমার।
সেই সময় নীতীশ কুমারের পাশে ছিলেন রাজ্যের উপ–মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি–র সম্রাট চৌধুরি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গল পাণ্ডে। নীতিশ কুমারের এই আচরণে উপস্থিত সকলেই হতবাক হয়ে যান। সম্রাট চৌধুরি নীতীশ কুমারকে থামানোর চেষ্টা করেন। একজন জেডিইউ সাংসদও নীতীশ কুমারকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে তিরস্কার করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই মুখ্যমন্ত্রীর হিজাব খুলে দেওয়ার ঘটনা ভিডিও করেন। আসনে বসা সকলেই হাসাহাসি শুরু করেন। পরে এই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
নীতীশ কুমারের এই আচরণকে ‘নির্লজ্জ’ ও ‘ঘৃণ্য’ বলে অভিহিত করে কংগ্রেস বলেছে যে, তাঁর মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত। অন্যদিকে, আরজেডি বলেছে, এটা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির প্রমাণ। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে এক্স–এ পোস্ট করা হয়েছে, ‘নীতীশ কুমারের নির্লজ্জতা দেখুন। একজন মহিলা ডাক্তার নিয়োগপত্র নিতে এসেছিলেন। নীতীশ কুমার তাঁর হিজাব খুলে ফেলেন। বিহারের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত একজন ব্যক্তি প্রকাশ্যে এমন জঘন্য কাজে লিপ্ত হচ্ছেন। একবার ভাবুন, রাজ্যের মহিলারা কতটা নিরাপদ থাকবেন? এই জঘন্য আচরণের জন্য নীতীশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। এই আচরণ ক্ষমার অযোগ্য।’
রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল আরজেডি–র পক্ষ থেকে এক্স–এ লেখা হয়েছে, ‘নীতীশজির কী হয়েছে? তাঁর মানসিক অবস্থা এখন সম্পূর্ণ শোচনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে।’ আরজেডি মুখপাত্র আজাজ আহমেদ বলেন, মহিলাদের বোরকা বা হিজাব খুলে ফেলা ভারতীয় সংবিধান এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন যে, সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে সংস্কৃতি ও ধর্মের স্বাধীনতার সাথে তাদের জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করে। নীতীশ কুমারের মহিলা চিকিৎসকের হিজাব খুলে দেওয়া জেডিইউ–বিজেপি জোটের নারীদের প্রতি মনোভাব প্রকাশ করে। এই আচরণের জন্য মহিলাদের কাছে নীতীশের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন আজাজ আহমেদ।
আজাজ আহমেদ বলেন, ‘নারীদের মুখোশ উন্মোচন করাই মুখ্যমন্ত্রীর মানসিকতা। নীতীশ কুমার ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ শুরু করেছেন, যা সংবিধানের পরিপন্থী। পর্দা ধারণকারী একজন মুসলিম মহিলার মুখ থেকে হিজাব সরিয়ে দিয়ে নীতীস কুমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে নারীর ক্ষমতায়নের নামে জেডিইউ এবং বিজেপি কী ধরণের রাজনীতিতে লিপ্ত। একজন মহিলার পর্দা অপসারণ এক অর্থে, একজনের সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা অনুসারে জীবনযাপনের অধিকার কেড়ে নেওয়ার একটা কাজ, যা ভারতীয় সংবিধান এবং এর সাংবিধানিক ব্যবস্থা দ্বারা সকলের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে।’