সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ন্যাশনাল হেরাল্ড আর্থিক দুর্নীতি মামলার ইডি–র চার্জশিট খারিজ।
ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় আদালতে বড় ধাক্কা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ন্যাশনাল হেরাল্ড আর্থিক দুর্নীতি মামলার ইডি–র চার্জশিট খারিজ করে দিল আদালত। মঙ্গলবার দিল্লির রাউস এভিনিউ আদালতের বিশেষ বিচারক বিশাল গোগনে বলেছেন যে, আর্থিক দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট কর্তৃক দায়ের করা অভিযোগ গ্রহনযোগ্য নয়। কারণ মামলাটি ব্যক্তিগত অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছিল, প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদনের (এফআইআর) ভিত্তিতে নয়।
রাউস এভিনিউ আদালত বলেছে যে, এজেন্সির ‘মানি লন্ডারিং’ প্রতিরোধ আইন বা পিএমএলএ–এর অধীনে দায়ের করা মামলাটি বহাল রাখা যাবে না। কারণ মামলাটি একটি ব্যক্তিগত অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল, অর্থাৎ বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর দায়ের করা। কোনও প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন বা এফআইআরের ভিত্তিতে নয়। আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা ইতিমধ্যেই এই মামলায় একটা এফআইআর নথিভুক্ত করেছে, যার অর্থ এখন ইডির জমা দেওয়ার বিষয়ে রায় দেওয়া অবিবেচনাপ্রসূত হবে। আদালত আরও জানিয়েছে, ইডি তাদের তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে।
গত মাসে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের বিদেশী ইউনিটের প্রধান স্যাম পিত্রোদাসহ আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে ‘অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড’, যা বর্তমানে বিলুপ্ত ন্যাশনাল হেরাল্ড সংবাদপত্রের মূল সংস্থা, জালিয়াতিপূর্ণভাবে অধিগ্রহণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল। সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী ছাড়াও, সুমন দুবে, স্যাম পিত্রোদা, ইয়ং ইন্ডিয়ান, ডোটেক্স মার্চেন্ডাইজ এবং সুনীল ভাণ্ডারিকেও এই মামলায় অভিযুক্ত করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের দেওয়া এই নির্দেশের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট উচ্চ আদালতে আবেদন জানাতে পারে। ইডি–র আইনি দল রাউস এভিনিউ আদালতের দেওয়া রায় বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করবে। সূত্র জানিয়েছে, ব্যক্তিগত অভিযোগটি কোনও সাধারণ ব্যক্তিগত অভিযোগ ছিল না। এটা এমন একটা অভিযোগ, যেখানে অপরাধের বিষয়ের স্বীকৃতি ইতিমধ্যেই গ্রহন করা হয়েছিল। সূত্র জানিয়েছে যে, বিচারক সম্ভবত বিজয় মদনলাল চৌধুরীর রায়ের প্রাসঙ্গিক অনুচ্ছেদগুলি উপেক্ষা করেছেন।
আরও পড়ুনঃ পাকিস্তান সেনার অসহায় আত্মসমর্পন, রচিত হয়েছিল গৌরবময় কাহিনী, বিজয় দিবসে বীর সৈনিকদের শ্রদ্ধা মোদীর
ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলার ব্যাপারে কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি বলেন, ‘মামলাটি নিয়ে যখন আমি সওয়াল শুরু করি, সেই সময় আদালতকে বলেছিলাম যে, এটা একটা অদ্ভুত মামলা, যেখানে আর্থিক লেনদেনের কোনও ব্যাপার নেই। সমস্ত সম্পত্তি ‘অ্যাসোসিয়েডেট জার্নালস লিমিটেড’–এর কাছেই রয়ে গেছে এবং অর্থ পাচার হচ্ছে। ‘অ্যাসোসিয়েডেট জার্নালস লিমিটেড’ এখন অন্য একটা কোম্পানি ইয়ং ইন্ডিয়ার ৯০ শতাংশ মালিকানাধীন। মামলাটি একেবারেই গ্রহনযোগ্য নয়। বিজেপি এটা নিয়ে হল্লা তৈরি করেছে। অতিরঞ্জিত একটা কাঠামো তৈরি করেছে।’
১৯৩৮ সালে জওহরলাল নেহেরু এবং অন্যান্যদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল হেরাল্ড ছিল ‘অ্যাসোসিয়েডেট জার্নালস লিমিটেড’–এর মালিকানাধীন এবং প্রকাশিত একটি সংবাদপত্র। কংগ্রেসের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত এই সংবাদপত্রটি ২০০৮ সালে ৯০.২১ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে অফলাইনে চলে যায়। কিন্তু তখন এটার আনুমানিক ২০০০ কোটি টাকার রিয়েল এস্টেট সম্পদ ছিল। ইডি দাবি করেছে যে, এগুলোর মূল্য এখন ৫,০০০ কোটি টাকা।
২০১২ সালের নভেম্বরে বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ দায়ের করেন যার অভিযোগে গান্ধী এবং অন্যান্য সিনিয়র কংগ্রেস নেতারা জালিয়াতি করে ‘অ্যাসোসিয়েডেট জার্নালস লিমিটেড’ দখল করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, কংগ্রেস নেতারা মাত্র ৫০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সম্পত্তিগুলি দখল করেছেন। এর মধ্যে দিল্লির হেরাল্ড হাউস এবং মুম্বইয়ের সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। জানা গেছে, এগুলোর মূল্য মোট ৬৬১ কোটি টাকা।