নির্বাচনে বিশ্বব্যাঙ্কের ১৪ হাজার কোটি টাকার তহবিল ব্যবহার করেছে নীতীশ কুমার সরকার
উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত বিশ্ব ব্যাঙ্কের ১৪ হাজার কোটি টাকার তহবিল বিহার নির্বাচনের আগে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনই মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরজ পার্টি। তাদের অভিযোগ, এই অর্থ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার করে দেওয়া হয়েছিল। জন সুরজ পার্টি এই পদক্ষেপকে জনগণের অর্থের স্পষ্ট অপব্যবহার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার এক অনৈতিক প্রচেষ্টা হিসাবে বর্ণনা করেছে। এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলেরও ধারণা এই মহিলা ভোটাররাই সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনার আওতায় নীতীশ কুমার সরকার ১.২৫ কোটি মহিলা ভোটারের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছিল। নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, এনডিএ–র পুনরায় ক্ষমতায় আসার পেছনে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। জন সুরাজ পার্টির জাতীয় সভাপতি উদয় সিং বলেন, ‘এই নির্বাচনের ফলাফল কার্যকরভাবে কেনা হয়েছে। ২১ জুন থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফল সুরক্ষিত করতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। জনসাধারণের অর্থ ব্যবহার করে তারা মূলত জনগণের ভোট কিনেছে। আমি বিশেষ সূত্র থেকে জেনেছি, বিশ্ব ব্যাঙ্ক থেকে প্রাপ্ত তহবিল এই নগদ অর্থ মহিলাদের অ্যাকাউন্ডে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।’ জন সুরজ পার্টির নেতা আরও দাবি করেছেন যে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পুনরুদ্ধার করার মতো ক্ষমতা বিহারের অর্থনীতির নেই। সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনকল্যাণে ব্যয় করার জন্য তহবিলে খুব বেশি অর্থ অবশিষ্ট নেই।
আরও পড়ুনঃ মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার? আজই রায় ঘোষণা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে
জন সুরজ পার্টির মুখপাত্র পবন ভার্মা অভিযোগের কথা পুনরায় তুলে ধরে দাবি করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার এখন শূন্য হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য আছে, বিশ্বব্যাঙ্ক থেকে অন্য কোনও প্রকল্পের জন্য আসা ২১ হাজার কোটি টাকা থেকে রাজ্যের মহিলাদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আচরণবিধি জারির এক ঘন্টা আগে ১৪ হাজার কোটি টাকা বার করে রাজ্যের ১.২৫ কোটি মহিলার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল।’ করেন।
পবন ভার্মা আরও বলেন, ‘যদি এটা সত্যি হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠবে, এটা কতটা নীতিগত। আইনত, এই নিয়ে কিছুই করা যাবে না। সরকার তহবিল সরিয়ে পরে ব্যাখ্যা দিতে পারে। নির্বাচনের পরে ব্যাখ্যা আসবে।’ ভার্মা আরও উল্লেখ করেছেন যে, বিহারের বর্তমানে সরকারি ঋণ ৪.০৬ লক্ষ কোটি টাকা। যার দৈনিক সুদের বোঝা ৬৩ কোটি টাকা। বিহার নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর এই অভিযোগগুলি তোলা হচ্ছে জন সুরজ পার্টির পক্ষ থেকে। নির্বাচনী কৌশলবিদ থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত প্রশান্ত কিশোর প্রতিষ্ঠিত নবগঠিত জন সুরাজ পার্টি ২০২৫ বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ২৩৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও একটিও আসন জিততে পারেনি।