রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে ভুয়ো ভোটারের তালিকা জমা দিল বিজেপি। বুধবার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে একটা পেন ড্রাইভে এই তালিকা জমা দেন। এই তালিকায় রয়েছে গোটা রাজ্যের ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার ভুয়ো ভোটারের নাম।
বুধবার দলীয় নেতা ও বেশকিছু কর্মীদের নিয়ে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী দফতরে হাজির হন শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিল ৫টি লোকসভার ভুয়ো ভোটারের তালিকা। নথি নিয়ে তাঁকে রাজ্য নির্বাচনী দফতরে প্রবেশ করতে দেখে রীতিমতো হুলস্থুল পড়ে যায়। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে বেরিয়ে এসে শুভেন্দু জানান, গোটা রাজ্যের ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার ভুয়ো ভোটারের তালিকা জমা দিয়েছেন৷ একটা পেন ড্রাইভে ভুয়ো ভোটারদের যাবতীয় তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি বীরভূম, পুরুলিয়া, বীরভূম, তমলুক, কাঁথি ও কোচবিহারের ভুয়ো ভোটারের তালিকা জমা দিয়েছেন।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, ভুয়ো ভোটারের জন্যই তৃণমূল ভোটে জেতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গর্তে কার্বলিক অ্যাসিড দিয়ে দিয়েছে। তৃণমূলের সাপরা গর্ত থেকে বেরিয়ে পড়েছে। মমতা ব্যানার্জি চিৎকার করছেন। ওনার পায়ে কাঁটা ফুটেছে।’ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে অভিযোগের তদন্ত হবে বলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কথা দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ যুদ্ধের উস্কানি পাক প্রধানমন্ত্রীর? ইসলামাবাদের বিস্ফোরণের জন্য সরাসরি ভারতকে দায়ী করেছেন শেহবাজ শরীফ
পাশাপাশি SIR নিয়ে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে গেরুয়া শিবির। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে ৬৫টি অভিযোগ জমা দিয়েছে বিজেপি। বিজেপি–র পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম ও মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। বহু জায়গায় বিএলও–রা বাড়ি বাড়ি না গিয়ে ক্লাবে বসে ফর্ম দিচ্ছেন বা কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে ফর্ম পূরণ করছেন। অভিযোগের আঙুল বুথ লেভেল অফিসারদের দিকে। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, বিজেপি–র বুথ লেভেল এজেন্টদের বাদ দিয়েই ফর্ম বিলি করা হচ্ছে। কোথাও তাঁদের বয় দেখানো হচ্ছে, মারধোরও করা হচ্ছে। শুভেন্দুর দাবি, এফআইআর দায়ের করা হলেও পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। এটা রাজ্যের শাসক দলের প্রশ্রয়ে চলছে। বিজেপি চাইছে, কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা নিক, যাতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠকে এদিন বিএলও প্রসঙ্গও ওঠে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী৷
শুভেন্দু অধিকারী আরও জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় তাঁদের পর্যবেক্ষক দল কাজ করছে। তিনি বলেন, বিজেপি প্রায় ৫০ হাজার বিএলএ–র কাগজ জমা দিয়েছে। এদের মধ্যে ৪২ হাজার পরিচয়পত্র কমিশন দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৪৩ হাজার বিএলএ–র পরিচয়পত্র। সিপিআইএম পেয়েছে প্রায় ৩০ হাজার, আর কংগ্রেস পেয়েছে ৯ হাজার। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা প্রশ্ন তুলেছেন, এত এজেন্ট যখন মাঠে নেমে কাজ করছে, তখন কেন বিজেপির এজেন্টদের বাদ দিয়ে কাজ হচ্ছে?