বিহারে ভোট চুরি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন তেজস্বী যাদব, রাহুল গান্ধীরা। তাঁদের সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়ে রাষ্ট্রীয় জনতা দল, কংগ্রেস, বামপন্থীদের মহাগঠবন্ধনকে উড়িয়ে বিহারে আবার ক্ষমতায় এল এনডিএ। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আবার বিহারে সরকার গড়তে চলেছে এনডিএ জোট। জোটে সবচেয়ে বেশি আসন পেল বিজেপি, নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড দ্বিতীয় স্থানে। ২০১০ সালের পর আবার চূড়ান্ত খারাপ ফলের সাক্ষী থাকল লালু প্রসাদ যাদবের আরজেডি। কংগ্রেস, বামপন্থী দলগুলি এবারের নির্বাচনে কোনও প্রভাবই ফেলতে পারল না।
এবারের নির্বাচনে বুথ ফেরত সব সমীক্ষাতেই এনডিএ জোটকে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। সব সমীক্ষাকেও ছাপিয়ে গেছে এনডিএ–র প্রাপ্ত আসন। বুথ ফেরত বিভিন্ন সমীক্ষায় এনডিএ জোটকে দেওয়া হয়েছিল ১৪০ থেকে ১৬০–এর মধ্যে আসন। সেই সমীক্ষাকেও ছাপিয়ে গেল এনডিএ–র প্রাপ্ত আসন সংখ্যা। রাজনৈতিক জীবনের শেষপ্রান্তে এসে নীতীশ কুমার বুঝিয়ে দিলেন এখনও তিনিই বিহারের রাজা। ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৪৩ আসন পেয়েছিল জেডিইউ। এবার আসন সংখ্যা দ্বিগুনেরও বেশি। আগের নির্বাচনে ৭৪টি আসন পাওয়া বিজেপি–র ঝুলিতে ৯০টিরও বেশি আসন।
গতবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া আরজেডি এবার নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে৷ তেজস্বী যাদবের দলের হাল এতটাই খারাপ যে, বিরোধী দলনেতার পদের জন্য জোট শরিকদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। রাজ্যের ২৪৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৪৩টিতে লড়াই করেছিল রাষ্ট্রীয় জনতা দল। ঝুলিতে মাত্র ২৫টি আসন। এর আগে ২০১০ সালের বিধানসভা ভোটে ২২টি আসনে জিতেছিল লালু প্রসাদ যাদবের দল। এবারের নির্বাচনে এইরকম ভরাডুবির পর সঙ্গে প্রশ্ন উঠে গেল লালুপুত্র তেজস্বী যাদবের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও। কঠিন লড়াইয়ের পর পারিবারিক রাঘোপুর আসন অবশ্য ধরে রেখেছেন তেজস্বী। জিতেছেন ১১ হাজারের বেশি ভোটে।
প্রচারে ঝড় তুললেও ভোট বাক্সে প্রভাব ফেলতে পারল না বিরোধীরা৷ সব মিলিয়ে ৫০–এর কাছাকাছিও পৌঁছতে পারল না। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, উন্নয়ন, সুশাসনের পাশাপাশি মহিলাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে দিয়েই বাজিমাত করেছেন নীতীশ কুমার৷ গতবারের থেকে এবার প্রায় ৭২ লক্ষ বেশি ভোট পড়েছিল৷ এদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা। মহিলা ভোটাররাই ঢেলে সমর্থন জানিয়েছেন এনডিএ–কে। কারণ, নির্বাচনের আগে ৭৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছিল নীতীশের সরকার৷ মহাগঠবন্ধনের আশা ছিল যুবক ও পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট। কিন্তু সেটা হয়নি।
এবারের নির্বাচনে নীতীশ কুমারের জেডিইউ–য়ের থেকে বেশি আসন জিতেছে বিজেপি। বেশি আসন জিতলেও বিজেপি হয়তো মুখ্যমন্ত্রী পদ পাবে না। কারণ নীতীশ কুমার। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে চাইবেন না। আগের বিধানসভা নির্বাচনে জেডিইউ–র দ্বিগুণ আসন পেয়েও মুখ্যমন্ত্রীর পদ নীতীশকেই ছেড়ে দিতে হয়েছিল বিজেপিকে। এবার অবশ্য বিজেপি–র কয়েকজন নেতা চান না নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়তে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর পদ না পেলে নীতীশ কুমার জোটে থাকবেন কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
আরও একটা সূত্র উঠে আসছে। নীতীশ কুমার যদি এনডিএ ছেড়ে চলে যায়, তাহলে চিরাগ পাসোয়ানের এলজেপি এবং অন্য দুই শরিক হিন্দুস্তান আওয়াম মোর্চা ও আরএলএমকে নিয়ে সরকার গঠন করতে পারে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা লোক জনশক্তি পার্টির (রামবিলাস) নেতা চিরাগ পাসোয়ানের দল বিহার বিধানসভা ভোটে অভূতপূর্ব ফল করেছে। ২০২০ সালের একটি আসন থেকে এবার চতুর্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মর্যাদা পেতে চলেছে এলজেপি। শুধু তাই নয়, শাসক জোটের অভ্যন্তরে তাঁর দলই তৃতীয় বড় দলের মর্যাদা পাচ্ছে। অন্যদিকে, নীতীশ কুমারও আরজেডি–কে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে পারেন। প্রয়োজনে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির এআইএমআইএম–এর হাত ধরতে পারেন নীতীশ কুমার। তাঁর পক্ষে রাতারাতি পাল্টি খাওয়া কোনও ব্যাপার নয়, সবই সম্ভব।