অনুমতি ছাড়াই দিল্লির যন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থলে প্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার ককরোচ জনতা পার্টির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁদের ৫ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অজিঙ্ক শিন্ডেকেও আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। তাঁকে অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ তিনজনের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য, শান্তিচুক্তি ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মচারীকে তাঁর দফতরের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।
সোমবারই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানের তালিকা থেকে যন্তর মন্তরকে বাদ দিয়েছে। তাসত্ত্বেও মঙ্গলবার সকালে সিজেপি নেতারা সেখানে বিক্ষোভ করেন। আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস এবং অজিঙ্ক শিন্ডেসহ অন্যান্য কর্মীরা তেরঙ্গা পতাকা নাড়তে নাড়তে ও স্লোগান দিতে দিতে ব্যারিকেড পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর পুলিশ তাঁদের আটক করে। বুধবার তিনজনকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) আদালতে হাজির করা হয়। সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে ৫ দিনের জন্য বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হলেও অজিঙ্কা শিন্ডেকে মুচলেকায় স্বাক্ষর করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, সৌরভ, আশুতোষদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় তেরঙ্গা হাতে নেতাদের প্রতিবাদের একটা ছবি শেয়ার করে প্রশ্ন তুলেছেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা কি এখন বেআইনি হয়ে গেল? তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও ট্যাগ করেছেন। এছাড়া, অন্যা একটা পোস্টে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনের ভেতরে অজিঙ্ক, আশুতোষ ও সৌরভের ছবি শেয়ার করে বলেছেন, আটক হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের মনোবল অটুট রয়েছে।
শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে আটক হওয়ার পর আশুতোষ ও সৌরভ এক বছর শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে দিল্লি পুলিশের কর্তারা জানিয়েছেন। তবে, সিজেপি–র আইনি দলের প্রধান রত্না সিং দাবি করেছেন যে, ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় আটক রাখা হয়েছে। এক্স–এ এক পোস্টে রত্না সিং অভিযোগ করেছেন যে, ভোর ৩টেয় একটা ব্যক্তিগত ভ্যানে করে তাঁদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল এবং গভীর রাত পর্যন্ত আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে সিজেপি ও অন্যান্য সংগঠনের বিক্ষোভের জেরে দিল্লির যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করার মধ্যেই এই আটকগুলি করা হয়েছে। ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এক আদেশ জারি করে রামলীলা ময়দান, বুরাড়ি ময়দান এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করেন। এই আদেশের ফলে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে যন্তর মন্তর কার্যত বাদ পড়ে যায়। সিজেপি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে যুক্তি দিয়েছে যে, বিক্ষোভগুলিকে জাতীয় রাজধানীর রাজনৈতিক কেন্দ্র থেকে সরিয়ে নিলে জনমতের দৃশ্যমানতা হ্রাস পাবে।