কলকাতা মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি ছাত্রীর শ্লীলতাহানি অধ্যাপকের! তুমুল বিক্ষোভ, অপসারিত বিভাগীয় প্রধান
কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলেছেন এক ডাক্তারি পড়ুয়া ছাত্রী। এই নিয়ে কলকাতা মেডিকেল হাসপাতাল তুলকালাম। অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধানের অপসারণের দাবিতে শুক্রবার হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়াদের একাংশ। বিক্ষোভের জেরে অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ডাক্তারি পড়ুয়া ছাত্রীর।
ইনসাইড বাংলা ওয়েব ডেস্ক
শেষ আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০২৫
Share on:
হাসপাতাল চত্বরে একের পর নারী নির্যাচনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। আরজি কর হাসপাতালে ডাক্তারি পড়ুয়া ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা এখনও টাটকা। শুক্রবারই সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপার অবনী আচার্যর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন এক মহিলা নিরাপত্তাকর্মী। এদিনই আবার কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলেছেন এক ডাক্তারি পড়ুয়া ছাত্রী। এই নিয়ে কলকাতা মেডিকেল হাসপাতাল তুলকালাম। অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধানের অপসারণের দাবিতে শুক্রবার হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়াদের একাংশ। বিক্ষোভের জেরে অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কলকাতা মেডিকেল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের প্রধান কল্যাণ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার অভিযোগ ওঠে। শুক্রবার এই নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে প্রিন্সিপালের ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বেশকিছু পড়ুয়া। তাদের অভিযেগ, ওই বিভাগীয় প্রধান প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন, খারাপভাবে তাঁকে স্পর্শ করেছেন। ক্লাসের ভেতরে এবং বাইরে ওই ছাত্রীকে নানাভাবে হেনস্থাও করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রী প্রথমে অশালীন আচরণের ঘটনা নিয়ে বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের কাছে অভিযোগ করেন। এরপর ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে পড়ুয়ারা প্রিন্সিপাল ইন্দ্রনীল বিশ্বাসের ঘরের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। অভিযুক্ত অধ্যাপককে অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানায়। অবশেষে পড়ুয়াদের দাবি মেনে অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধানকে পদত্যাগ করতে বলেন প্রিন্সিপাল। চাপে পড়ে বিকেলের দিকে পদত্যাগ করেন অভিযুক্ত অ্যানাটমি বিভাগের প্রধান কল্যাণ ভট্টাচার্য। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডাঃ মৈত্রেয়ী মণ্ডলকে।
শ্লীলতাহানির ঘটনা নিয়ে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষর তরফ থেকে ৭ জনের একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ১০ দিনের মধ্যে অধ্যক্ষকে রিপোর্ট জমা দেবে। তারপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কলেজের অধ্যক্ষ জানান, ‘রিপোর্ট জমা পড়তে তা স্বাস্থ্য দফতরে পাঠাব। রিপোর্টে অনুযায়ী স্বাস্থ্য দফতরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’ পড়ুয়াদের বক্তব্য, প্রতি বছর প্রথম বর্ষের কোনও না কোনও ছাত্রীর ওপর অত্যাচার করতেন ওই বিভাগীয় প্রধান। কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। ৪ বছর ধরে ওই বিভাগীয় প্রধানকে সরানোর জন্য লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে পদক্ষেপ নেওয়া হল।
Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.