টেনিসের রাজদণ্ড অভিজ্ঞ হাতের মুঠোয় রইল না, ছিনিয়ে নিলেন এক তরুণ। তারুণ্যের স্পর্ধার কাছে নতিস্বীকার অভিজ্ঞতার। অস্ট্রেলিয়ার রড লেভার এরিনায় মহাকাব্যিক লড়াইয়ে ১০ বারের চ্যাম্পিয়ন নোভাক জকোভিচকে হারিয়ে নিজের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা জিতলেন আলকারাজ। ম্যাচের ফলাফল ২-৬, ৬-২, ৬-৩, ৭-৫। এই জয়ের মাধ্যমে মাত্র ২২ বছর ২৭২ দিন বয়সে টেনিস ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ‘ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম’ জয়ের বিরল কীর্তি গড়লেন এই তরুণ তুর্কি।
ফাইনালে ওঠার পথটা দুজনের জন্যই ছিল অগ্নিপরীক্ষার মতো। সেমিফাইনালে ইয়ানিক সিনারের বিপক্ষে ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লড়েছিলেন ৩৮ বছর বয়সী জকোভিচ। অন্যদিকে, আলকারাজকে ফাইনালের টিকিট পেতে আলেকজান্ডার জেভেরেভের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছিল ৫ ঘণ্টারও বেশি সময়। সত্যিই এক মহাকাব্যিক ম্যাচ। সেমিফাইনালের ক্লান্তিকে জয় করেই রবিবার রড লেভার এরিনায় মুখোমুখি হন দুই প্রজন্মের সেরা দুই তারকা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল জকোভিচ–সুলভ আধিপত্যে ঘেরা। প্রথম সেটে জকোভিচের অভিজ্ঞতার সামনে দাঁড়াতেই পারেননি আলকারাজ। হারেন ২–৬ ব্যবধানে। কিন্তু দ্বিতীয় সেট থেকেই শুরু হয় আলকারাজের মরণপণ লড়াই। ৬–২ ব্যবধানে জিতে সমতা ফেরান। তৃতীয় সেটে জকোভিচকে উৎসাহিত করতে থাকেন দর্শকরা। কিন্তু ক্লান্তি যেন গ্রাস করেছিল জকোভিচকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৃতীয় সেট ৬–৩ ব্যবধানে জিতে এগিয়ে যান আলকারাজ।
আরও পড়ুনঃ টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান, আইসিসি–র কড়া হুঁশিয়ারি
চতুর্থ সেটটি ছিল আক্ষরিক অর্থে স্নায়ুর লড়াই। ৫–৫ সমতা পর্যন্ত জকোভিচ চেষ্টা করেছিলেন ম্যাচটিকে পঞ্চম সেটে টেনে নিয়ে যেতে। কিন্তু আলকারাজের গতির কাছে আজ হার মানতে বাধ্য হন সার্বিয়ান কিংবদন্তি। ৭–৫ ব্যবধানে চতুর্থ সেট জিতে কেরিয়ার গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের নজির গড়েন আলকারাজ। ২৫তম গ্র্যান্ডস্লাম জয় অধরাই থেকে গেল জকোভিচের কাছে। ১০ বারের চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে মেলবোর্নের নতুন সম্রাট হিসেবে নিজের অভিষেক ঘটালেন আলকারাজ।
জকোভিচের ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বপ্ন আজ অপূর্ণ থাকলেও, টেনিস বিশ্ব সাক্ষী থাকল এক নতুন যুগের। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে আলকারাজ যখন ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন, তখন গ্যালারিতে বসা রড লেভার থেকে শুরু করে অগণিত ভক্তরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান এই নতুন বীরকে। মেলবোর্নের সূর্য রবিবার অস্তমিত হয়েছে জকোভিচের বিদায়ে নয়, বরং আলকারাজ নামক এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের উদয়ে।