ইস্টবেঙ্গলের মুখের গ্রাস কেড়ে নিলেন সদ্য মাতৃহারা অর্ণব, ডার্বির আগে হার লাল–হলুদের
মাতৃবিয়োগের দুদিন পরে শুধু মাঠেই নামলেন না, ইস্টবেঙ্গলের মুখের গ্রাস কেড়ে নিলেন সদ্য মাতৃহারা অর্ণব দাস। তাঁর দুরন্ত গোলকিপিংয়ের ওপর ভর করে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে জয় তুলে নিল পাঠচক্র। যদিও পাঠচক্রের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ডেভিড মোটলা।
ম্যাচের সেরা গোলকিপার অর্ণব দাসকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন পাঠচক্র কোচ।
স্পোর্টস টাইম ওয়েব ডেস্ক
শেষ আপডেট: জুলাই ১৬, ২০২৫
Share on:
রবিবার মা মারা গেছেন। পরের দিনই কাছা পরে অনুশীলনে হাজির। সতীর্থরা অবাক। আগের দিনই যার মা মারা গেছেন, সে কিনা অনুশীলনে হাজির! চমক আরও অপেক্ষা করছিল। কোচের কাছে গিয়ে জানিয়ে দেন, ‘স্যার আমি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ম্যাচটা খেলব।’ মাতৃবিয়োগের দুদিন পরে শুধু মাঠেই নামলেন না, ইস্টবেঙ্গলের মুখের গ্রাস কেড়ে নিলেন সদ্য মাতৃহারা অর্ণব দাস। তাঁর দুরন্ত গোলকিপিংয়ের ওপর ভর করে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে জয় তুলে নিল পাঠচক্র। যদিও পাঠচক্রের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ডেভিড মোটলা।
৪ বছর আগে মারা যান অর্ণবের বাবা। শিমুরালির বাড়িতে মা’কে নিয়েই থাকতেন পাঠচক্রের এই গোলকিপার। রবিবার মাও মারা গেলেন। একা হয়ে পড়েছেন অর্মব। মায়ের মৃত্যুর যন্ত্রণা ভুলতে ফুটবলকেই বেছে নেন। অশৌচের পোশাক পড়েই মঙ্গলবার ব্যারাকপুর স্টেডিয়ামে হাজির ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে খেলতে। মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই শাগু ও ফল খেয়েই রয়েছেন। মাঠে আসার আগেও সেই একই খাবার। দুর্বল শরীর ও ভগ্নহৃদয় নিয়েই মাঠে দুর্দান্ত লড়াই করেন। তিনকাঠির নিচে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। বেশ কয়েকটা নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হন।
দুর্দান্ত জয় দিয়ে লিগ অভিযান শুরু করলেও ইস্টবেঙ্গলের পারফরমেন্সের গ্রাফ ক্রমশ নিম্নমুখী। টানা দু’ম্যাচ জয়ের পর এদিন পাঠচক্রের কাছে হারতে হল। ম্যাচের ফল ১–০। জঘন্য খেলা ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের। গতবছর এই দল যে ফুটবল উপহার দিয়েছিল, তার ছিটেফোটাও চোখে পড়ছে না। তার ওপর সুযোগ নষ্টের প্রদর্শনী। তবে লাল–হলুদ ফুটবলারদের তিনকাঠি ভেদ করার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান পাঠচক্র গোলকিপার অর্ণব। গোটা সাতেক নিশ্চিত গোল বাঁচান। ম্যাচের শেষলগ্নে একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে প্রভাত লাকরার শট আটকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে লাল–হলুদ রক্ষণকে বোকা বানিয়ে গোল করেন পাঠচক্রের ডেভিড মোটলা।
গতবছর এই ইস্টবেঙ্গল দলে পিভি বিষ্ণু, জেসিন টিকে, আমন সিকেরা প্রচুর গোল করেছিলেন। এবছর জেসিন ছাড়া পজিটিভ স্ট্রাইকার নেই। প্রথমার্ধে গোল না পাওয়ায় পরের দিকে তাঁকে নামিয়েছিলেন লাল–হলুদ কোচ বিনো জর্জ। তাতেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। ১৯ জুলাই ডার্বি। তার আগে পাঠচক্রের বিরুদ্ধে এই জঘন্য ফুটবল চিন্তায় রাখবে ইস্টবেঙ্গল কোচকে।
Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.