বিদেশি দলের বিরুদ্ধে বরাবরই ভাল খেলার ঐতিহ্য ইস্টবেঙ্গলের। অতীতে যেমন ইরানের পাস ক্লাব, কোরিয়ার পিয়ং ইয়ংয়ের মতো দলের বিরুদ্ধে জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তেমনই হারিয়েছে ইরাকের আল জাওরা, থাইল্যান্ডের বেকতেরো সাসানার মতো দলকে। সেই ধারা অব্যাহত সাম্প্রতিককালেও। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু–র প্রাথমিক পর্বের ম্যাচে কুয়েতের আল আরাবিকে উড়িয়ে দিয়েছিল ৪–১ ব্যবধানে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই জর্ডনের আল হুসেইনকে তাদের ঘরের মাঠে আটকে দিয়েছিল। ইরাকের আল শোর্তার বিরুদ্ধে দু’বার এগিয়ে গিয়েও হারতে হল ইস্টবেঙ্গলকে। ম্যাচের ফল ৩–২। সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হল লাল–হলুদকে।
বিপক্ষে ৭ বিদেশি, ২ জন বিশ্বকাপার। এইরকম দলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে যে কোনও কোচই দু’বার ভাববেন। ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তেনীয় লোপেজ হাবাস অন্য ধাতুতে গড়া। তাঁর দর্শন হল ভয়ডরহীন ফুটবল। তাই আল শোর্তার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে পিছপা হননি। যদিও পরিস্থিতি তাঁকে বাদ্য করেছিল। আল শোর্তার বিরুদ্ধে ৩ পয়েন্ট না পেলে পরের রাউন্ডে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। হাতে ৬ বিদেশি থাকা সত্ত্বেও প্রথম একাদশে মাত্র তিনজন, রক্ষণে দিয়েগো জিভুলিচ, মাঝমাঠে দানি রামিরেজ ও মোহাম্মদ রশিদ। আক্রমণভাগে ভরসা করেছিলেন দুই স্বদেশি এডমুন্ড লালরিনডিকা ও ডেভিড লালহানসাঙ্গা। আল শোর্তার রক্ষণে রীতিমতো দাপিয়ে বেড়ালেন এডমুন্ড ও ডেভিড।
ম্যাচের প্রথম সুযোগটা অবশ্য পেয়েছিল আল শোর্তাই। কিংসলে কুকুর প্রয়াস রুখে দেন লালচুংনুঙ্গা। ৯ মিনিটেই এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। বক্সের মধ্যে হার্দিকের পাস ধরে হাফ টার্নে বাঁপায়ের দুরন্ত শটে বল জালে পাঠান ডেভিড। ১৪ মিনিটে সমতা ফেরায় আল শোর্তা। ডানদিক থেকে ভেসে আসা সেন্টারে হেডে বল জালে পাঠান আহমেদ ইয়াহিয়া। ২১ মিনিটে আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন লালচুংনুঙ্গা। অবিশ্বাস্য দক্ষতায় একহাতে নিশ্চিত গোল বাঁচান আল শোর্তা গোলকিপার জালাল। ফিরতি বল পেয়ে গিয়েছিলেন ডেভিড। তাঁর শট আবার বাঁচান জালাল।
৪০ মিনিটে আবার এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। ডেভিডকে বক্সের বাইরে ফাউল করায় ফ্রিকিক পায়। দানি রামিরেজের বাঁপায়ের দুরন্ত ফ্রিকিক বাঁদিকে ঝাপিয়ে আংশিক প্রতিহত করেন জালাল। ফিরতি বল পেয়ে যান রশিদ। তিনি ব্যাকপাস করেন। বক্সের মধ্যে সেই বল ধরে জালে পাঠান ডেভিড। ৪৩ মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ এসেছিলে ডেভিডের সামনে। বাঁদিক থেকে উঠে এসে মাপা পাস বাড়িয়েছিলেন জয় গুপ্তা। ডেভিডের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৪৫ মিনিটে আবার অবিশ্বাস্য সুযোগ নষ্ট করেন ডেভিড। ডানদিক থেকে হার্দিক ভাটের নিচু সেন্টার। সামনে শুধু আল শোর্তা গোলকিপার। বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন ডেভিড। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে তাঁকে হ্যাটট্রিক থেকে বঞ্চিত করেন জালাল। ডেভিডের শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান আল শোর্তা গোলকিপার।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই অন্য চেহারায় আল শোর্তা। একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিল। ৫১ মিনিটে হুসেন আল–সায়েদির গোলে সমতা ফেরায় আল শোর্তা। পরের মিনিটেই বারকোর কর্নার থেকে হেডে গোল করে আল শোর্তাকে এগিয়ে দেন কিংসলে কুকু। ৬৫ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে এডমুন্ডের শট গোলকিপার জালালের হাতে লেগে গোলে ঢোকার মুখে গোললাইন থেকে সেভ করেন আল শোর্তার এক ডিফেন্ডার।
৭৬ মিনিটে জয় গুপ্তাকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আল শোর্তার আব্দুল মজিদ মৌমনি। এরপরই আকে লোবা ও লুকাস জোলিনস্কিকে মাঠে নিয়ে আসেন হাবাস। আল শোর্তার রক্ষণে চাপ তৈরি হয়। ম্যাচের ইনজুরি সময়ে সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। জয় গুপ্তার হেড ঝাঁপিয়ে বাঁচান আল শোর্তার গোলকিপার। ফলে দু’বার এগিয়ে গিয়েও জয় এল না ইস্টবেঙ্গলের।