ভারতের বিরুদ্ধে খেলার পর কার্লো আনসেলোত্তি বলেছিলেন, এই ধরণের ম্যাচ যত বেশি খেলবে, ততই উন্নতি হবে ভারতের। কথাটা ভুল বলেননি ব্রাজিল কোচ। তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেই তার প্রমাণ দিয়ে গেলেন খালিদ জামিলের ছেলেরা। খালিদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফুটবলারদের মানসিকতা বদলে দিয়েছেন। তার নমুনা দেখা গেল তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেই। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে দুরন্ত ফুটবল। তবু বড় ব্যবধানে হার ভারতের। দিয়েগো ফোরলানের দলের জয় ৬–১ ব্যবধানে।
দুরন্ত ফুটবল খেলে পানামাকে আটকে দিয়েছিল ভারত। সেই আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করেই ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল ভারত। ২৮ মিনিট ব্রাজিলের মতো দলকে আটকে রেখেছিলেন আনোয়ার আলিরা। এদিন দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে নিজেদের তো ছাপিয়ে গেল। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জালে বলও জড়িয়েছিল। এই তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ কিন্তু ভারতীয় ফুটবলকে বদলে দিতে পারে।
বিশ্বের ২০ নম্বর দল। দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, লাতিন আমেরিকার অন্যতম শক্তিধর। যারা আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের মতো দলের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দেয়। সেই রকম দলের বিরুদ্ধে প্রথম ২৮ মিনিট দাপট! সত্যিই কল্পনারও অতীত। পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। যেভাবে রায়ান উইলিয়ামস, মনবীর সিং, আশিক কুরুনিয়ান, এডমুন্ড লালরিনডিকারা বারবার আক্রমণ শানিয়ে চাপে ফেলছিলেন জিমেনেজ, মৌরিনো, মার্টিনেজদের, বিশ্বাস করাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। একসময় উরুগুয়ের ১০ জন মিলে রক্ষণ সামলাচ্ছিল। আশিক কুরুনিয়ানকে আটকাতে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখতে হচ্ছে নানডেজের মতো ফুটবলারকে। সত্যিই এই দৃশ্য ভাবা যায় না।
আরও পড়ুনঃ শুরু হল শিল্ড ফাইনালের টিকিট বিক্রি, ডিস্ট্রিক্ট বাই জোমাটো অ্যাপের মাধ্যমে কাটতে হবে দর্শকদের
আগের দুটি ম্যাচের আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে এদিন দারুণ শুরু করেছিল ভারত। শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ৯ মিনিটেই সুযোগ এসে গিয়েছিল ভারতের সামনে। রায়ান উইলিয়ামসের কাছ থেকে বক্সের মধ্যে দারুণ জায়গায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন এডমুন্ড। দুরন্ত স্লাইডিং ট্যাকেল করে দলকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেন উরুগুয়ের ডিফেন্ডার মৌরিনো। ১১ মিনিটে পরমবীরের ভুলে পেনাল্টি পেয়ে এগিয়ে যায় উরুগুয়ে। গোল করেন নুনেজ। ২২ মিনিটে সমতা ফেরান অনিরুদ্ধ থাপা। ২৭ মিনিটে বিদ্যুৎ চমকানোর জন্য রেফারি খেলা বন্ধ করে দেন। যে সময় ম্যাচের মোমেন্টাম ভারত ধরে নিয়েছিল, সেই সময়ই বজ্রপাতের জন্য খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তাতেই মোমেন্টাম নষ্ট হয়ে যায় ভারতের। খেলা আবার শুরু হতেই এগিয়ে যায় উরুগুয়ে। ২৯ মিনিটে গোল করেন ম্যাক্সি আরাউজো।
প্রথমার্ধে ভারত যে ফুটবল খেলছিল, দ্বিতীয়ার্ধে তার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি ভারত। আসলে দ্বিতীয়ার্ধে নান্দেজের জায়গায় ভারেলা ও মার্টিনেজের জায়গায় টোরেরা আসার পর পুরো বদলে যায় উরুগুয়ে। ৫৩ মিনিটে জালাজারের গোলে ৩–১। মিনিট পাঁচেক পরেই ম্যাক্সি আরাউজো নিজের দ্বিতীয় গোল করে ৪–১ করেন। এই গোলের পরই ৫ জন ফুটবলারকে পরিবর্তন করেন উরুগুয়ে কোচ দিয়েগো ফোরলান। তাতেও দাপট কমেনি উরুগুয়ের। বরং আরও বেড়ে যায়। ৭০ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ এসেছিল পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা সানানের সামনে। তাঁর ডানপায়ের দুরন্ত শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় বাঁচান উরুগুয়ে গোলকিপার কার্ডোজো। পরের মিনিটেই সানাব্রিয়ার গোলে ৫–১। ৮৬ মিনিটে আগুইরে উরুগুয়ের হয়ে ষষ্ঠ গোলটি করেন। প্রথমার্ধের মতো খেলা উপহার দিতে পারলে ৬ গোল হজম করতে হত না ভারতকে।