ট্রেন্ডিং

IFA Shield final 2026

অগ্নিপরীক্ষায় সফল, ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে চাকরি বাঁচালেন ডিমপেরিস, ২২ বার শিল্ড চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান

মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বিরুদ্ধে শিল্ড ফাইনালে গোলখরা ইস্টবেঙ্গলের। হাতের সব অস্ত্র ব্যবহার করেও শিল্ড এল না আন্তেনীও লোপেজ হাবাসের হাতে। ইস্টবেঙ্গলকে ১–০ গোলে হারিয়ে আইএফএ শিল্ড জিতল মোহনবাগান। এই নিয়ে ২২ বার। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে কোচ প্যানাগিওটিস ডিমপেরিসের চাকরি বাঁচালেন সমীর জালকোভিচ।

জয়ের পর মোহনবাগান ফুটবলাররা।

আরিয়ান চৌধুরি

শেষ আপডেট: অক্টোবর ০৮, ২০২৬
Share on:

নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ৭–২ গোলে জোতার পর কিশোর ভারতী স্টেডিয়াম থেকে ফেরার সময় লাল–হলুদ সমর্থকদের মুখে একটাই কথা, সব গোল তো এদিনই হয়ে গেল, ফাইনালে কী হবে?‌ গোল আসবে তো?‌ লাল–হলুদ সমর্থকদের সেই আশঙ্কায় সত্যি হয়ে দাঁড়াল। মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বিরুদ্ধে শিল্ড ফাইনালে গোলখরা ইস্টবেঙ্গলের। হাতের সব অস্ত্র ব্যবহার করেও শিল্ড এল না আন্তেনীও লোপেজ হাবাসের হাতে। ইস্টবেঙ্গলকে ১–০ গোলে হারিয়ে আইএফএ শিল্ড জিতল মোহনবাগান। এই নিয়ে ২২ বার। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে কোচ প্যানাগিওটিস ডিমপেরিসের চাকরি বাঁচালেন সমীর জালকোভিচ। 

ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে শিল্ড ফাইনাল মোহনবাগান কোচ পানোসের কাছে ছিল অগ্নিপরীক্ষা। হারলেই চাকরি বাঁচানো দায় হয়ে যেত। পানোসকে বাঁচিয়ে দিলেন সমীর জালকোভিচ ও বিশাল কাইথ। গোল করে দলকে যেমন যেতালেন জালকোভিচ, তেমনই তিনকাঠির ভেতরে অপ্রতিরোধ্য বিশাল কাইথ। ৬ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। বাঁদিক থেকে অনেকটা দৌড়ে বক্সে ঢুকে শট নিয়েছিলেন এডমুন্ড। এগিয়ে এসে গোলমুখ ছোট করে কোনও রকমে বাঁচান বিশাল কাইথ।

শুরুর দিকে দুই দলের খেলায় তেমন বৈচিত্র ছিল না। মিনিট পাঁচেক মাঝমাঠেই খেলা সীমাবদ্ধ ছিল। এরপর দাপট বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। ১৫ মিনিটে প্রথম ইস্টবেঙ্গলের গোল লক্ষ্য করে শট মোহনবাগানের। ইনসাইড–আউটসাইড করে আরউইন গোল লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন। তাঁর সেই দুর্বল শট আটকাতে অসুবিধা হয়নি ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার পুর্বা লাচেনপার। তবে ২৩ মিনিটে অবিশ্বাস্য সুযোগ নষ্ট করেন মেহতাব সিং। বাঁদিক থেকে সেন্টার করেছিলেন অভিষেক সিং। অরক্ষিত মেহতাব বারেরও ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন।


হাইড্রেশন ব্রেকের পর থেকেই দাপট মোহনবাগানের। একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিলেন ছাংতে, সাহাল, সমীররা। ৩৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের দুরন্ত শট নিয়েছিলেন ছাংতে। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে অবিশ্বাস্য দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান লাচেনপা। পরের মিনিটেই সাহাল আব্দুল সামাদের শট আটকে দলর নিশ্চিত পতন রোধ করেন লাল–হলুদ গোলকিপার। প্রথমার্ধের শেষদিকে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে যথেষ্ট চাপে রেখেছিল মোহনবাগান। তার সুফলও তুলে নেয়। ৪৫ মিনিটে সাহালের পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সমীর জেলকোভিচ। 

ম্যাচে ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জয় গুপ্তাকে তুলে পোলিশ স্ট্রাইকার লুকাস জোলিনস্কিকে মাঠে নামান হাবাস। আক্রমণে আরও গতি আনতে ৫৮ মিনিটে আকে লোবো ও পিভি বিষ্ণুকেও নামিয়ে দেন। অন্যদিকে, সাহালকে তুলে মনবীর সিংকে মাঠে নামান মোহনবাগান কোচ পানোস। ৬৭ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। লালচুমনুঙ্গার সেন্টারে হেড করেছিলেন জোলিনস্কি। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচান মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ। প্রতিআক্রমণে উঠে এসে ছাংতে ইস্টবেঙ্গলের গোল লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন। অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

৭০ মিনিটে ছাংতে, আরউইনকে তুলে লিস্টন ও অনিরুদ্ধ থাপাকে নামান পানোস। অন্যদিকে, ইকোনোমিডিসকে মাঠে নিয়ে আসেন হাবাসও। হাতে থাকা সব অস্ত্র ব্যবহার করে আক্রমণে চাপ বাড়ান লাল–হলুদ কোচ। সেই সময় গোল বাঁচাতে মরিয়া মোহনবাগান। প্রায় সব ফুটবলারকেই রক্ষণে নামিয়ে নিয়ে আসেন পানোস। হাবাসের ছেলেরা একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে এলেও মোহনবাগান রক্ষণের জালে সব আটকে যায়। মেহতাব সিং ও আলবার্তো রডরিগেজ না থাকলে মোহনবাগানের ঘরে শিল্ড উঠত কিনা সন্দেহ।

আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora